রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নিরপেক্ষ, দৃঢ় ও নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরাম, গণফ্রন্টসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দ্বিতীয় দিনের সংলাপে অংশ নিয়ে তারা ইসির প্রতি নিজেদের প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
সকালে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সেশনে গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অর্ধশতাধিক নিবন্ধিত দলের মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শনিবারসহ মোট ২৪টি দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে।
আলোচনায় সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা জানান, নির্বাচন আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। কমিশন কোনো চাপের কাছে নতজানু হবে না বলেও আশ্বাস দেন তারা।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে কলুষিত করার ব্যবস্থা অতীতে ছিল। এবার ইসিকে দেখাতে হবে তারা সত্যিই নিরপেক্ষ। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোট যাতে হাস্যকর পরিণত না হয়, সেজন্য আপনাদের (ইসি) শক্ত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমানা নিয়ে ইসির বর্তমান সিদ্ধান্ত যথাযথ হলেও জটিলতা তৈরি হলে নির্বাচন পরিচালনা কঠিন হবে।
গণফ্রন্টের মহাসচিব আহমদ আলী শেখ বলেন, ইসি আজও অবিচারের শিকার। সেই অবিচারগ্রস্ত ইসির অধীনেই আমরা নির্বাচন করি। এবার ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। দলের আরেক প্রতিনিধি বলেন, ইসি শক্তিশালী না হলে নিয়ন্ত্রণমূলক স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দেবে। এখন গণতান্ত্রিক আস্থা ফিরিয়ে আনার সময়।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ এন এম সিরাজুল ইসলাম বিভাগওয়ারি ভোট গ্রহণ, জামানত কমানো ও ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তাব দেন। দলের মহাসচিব জাফর আহমেদ জয় বলেন, ইসি যেন কারো কাছে নতজানু না হয়। যদি চাপে দায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়, তাহলে উত্তম পথ বেছে নেবেন কিন্তু নতি স্বীকার করবেন না।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেন, গত ১৫ বছরের তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত, যা ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা সংকট তৈরি করেছে। তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং চার ধাপে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রতিনিধিরা কালো টাকা নিয়ন্ত্রণে ইসির কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি