রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। রায়ের পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আবারও ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তবে বাংলাদেশের হাতে তাঁকে হস্তান্তর করতে ভারত বাধ্য কি না, এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক ও আইনি মহলে।
ভারতের অবস্থান
চলতি বছরের অক্টোবরে ভারত আবারও জানায় হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়’ এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী বলেন, বিষয়টি আদালতনির্ভর, এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো কূটনৈতিক নোট ভারত গ্রহণ করলেও, নয়াদিল্লি জানায়,অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো অনুরোধ আইনি দিক থেকে বৈধ কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দু’দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি কী বলে
২০১৩ সালে ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়,ন্যূনতম এক বছর কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা যাবে। অপরাধটি উভয় দেশে শাস্তিযোগ্য হতে হবে।অপরাধে প্ররোচনা বা সহায়তা করা ব্যক্তিকেও প্রত্যর্পণ করা যাবে।
২০১৬ সালে চুক্তি সংশোধন করে বলা হয় কারও নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করা যেতে পারে, এ ক্ষেত্রে প্রমাণ উপস্থাপন বাধ্যতামূলক নয়। এই ধারার ভিত্তিতেই শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ করা যাবে না
চুক্তিতে কয়েকটি ব্যতিক্রমী ধারা রয়েছে: অপরাধ রাজনৈতিক চরিত্রের হলে প্রত্যর্পণ করা যাবে না। তবে হত্যা, গুম ও নির্যাতন রাজনৈতিক অপরাধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো: বিচারের উদ্দেশ্য যদি সৎ ও নিরপেক্ষ না হয়, তবে ভারত বা বাংলাদেশ কারও অনুরোধই মানতে বাধ্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারার কারণেই ভারত চাইলে শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে,ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে বাধ্য নয়, কারণ চুক্তিতে উল্লেখিত ব্যতিক্রমসমূহ নয়াদিল্লিকে স্বাধীনতা দেয়।
রায়ের ফলে বাংলাদেশে তাঁর জীবনের ঝুঁকি থাকলে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতেও ভারত তাঁকে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, দেশে না থাকায় সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ না পেলে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
কেন এই চুক্তি হয়েছিল
২০১৩ সালে সীমান্ত অঞ্চলে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর আশ্রয় নেওয়া, জেএমবি-র বিস্তার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ৫ আগস্ট তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সূত্র: আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি