কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: যে বয়সে ছেলেদের ওপর নির্ভরশীলতা থাকার কথা, সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়ের দেখাশুনা করতে হচ্ছে ৬০ বছরের এক বিধবা মাকে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একই পরিবারের প্রতিবন্ধী দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক বিধবা মা। অচেনা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে বিধবা মায়ের বোঝা হয়ে অনাহার অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন তারা। কিন্তু কোন সহানুভুতি দেয়ার মত যেন কেউ নেই তাদের।
গ্রামীণ পরিবেশ, একটি টিনের ঘর, পাখির ডাক, সকালে সূর্যের আলো একই ছাদের নিচে বাস করেন মা ভাই আর এক বোন। তাদের মধ্যে ভাই বোন দুজনেই প্রতিবন্ধী। তাদের চোখে কোনো বিলাসিতা নেই, নেই স্বপ্নের রঙিন পটভূমি। জন্মগতভাবে কেউই প্রতিবন্ধী ছিলেন না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের শরীরে দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা। প্রথমে হঠাৎ শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন বড় বোন মোর্শেদা (৩৫) পরবর্তী সময়ে তার ছোট ভাই মিজান (৩০) ও হয়ে যান প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার সৌভাগ্য হয়নি তাদের।
বাবার কোলে উঠেছেন। কিন্তু বাবার হাত ধরে হাঁটা হয়নি দুই প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের। বাবাও গত হয়েছেন আগেই। তিন পরিবারের দুই সদস্যই প্রতিবন্ধী। মা ভিক্ষা করে চালান সংসার। পরিবারের দুজনের প্রতিবন্ধী ভাতা আর ভিক্ষার আয় দিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে এই পরিবারের। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে অর্থকষ্টে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের।
এই পরিবারটির বসবাস কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের মান্দারকান্দি গ্রামে। একটি টিনের ঘরে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বসবাস মায়ের। সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় মা ফুলবানুর যুদ্ধ। আছে শুধু প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা আর একটানা সংগ্রাম। বয়সের ভার, দারিদ্র্যের যন্ত্রণা আর ভাগ্যের নিষ্ঠুরতার চাপে বহু আগেই ভেঙে পড়ার কথা ছিল তার, কিন্তু তিনি ভাঙেননি।
কারণ তার ভাঙার সুযোগ নেই, শারীরিকভাবে অক্ষম দুই সন্তানের প্রতিদিনের খাওয়া, গোসল, ওষুধপত্র, সেবাসহ সব দায়িত্ব তার কাঁধে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সন্তানদের মুখে দুমুঠো আহার তুলে দিতে একটানা সংগ্রাম। উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাই দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে মারা যান ফুলবানুর স্বামী। তখন থেকেই জীবনের মূল আশ্রয় হারান তিনি। আত্মীয় স্বজন কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। একসময় ছিল আত্মীয়তার বন্ধন, এখন আছে শুধু একা বেঁচে থাকার লড়াই। পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ না থাকায় পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সামান্য সাহায্য-সহযোগিতার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভক্সপপ এলাকাবাসী। তবে কোনো আর্থিক সহযোগিতা পেলে ছোটখাটো কোনো ব্যবসা করে সংসারে একটু সচ্ছলতা আনতে পারবেন বলে জানান তারা। প্রতিবন্ধী ভাই মিজান ও বোন মোর্শেদা। প্রতিবন্ধী সন্তাদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকি। মানুষ সাহায্য না করলে কোনোভাবেই চলে না। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম। ভক্সপপ বৃদ্ধা মা ফুলবানু। সরকারি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। সট: হাসান আহমেদ রমজান, সাধারণ সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদ,কিশোরগঞ্জ জেলা।
আমরা সরকারি সব ধরনের সাহায্য দেওয়ার চেষ্টা করব। সট: পাকুন্দিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাজাহান। পেঅফ..........তাদের জীবনে নেই উৎসবের আনন্দ, নেই সামাজিক স্বীকৃতি। কিন্তু আছে এক অদম্য মনোবল। আজ যদি আমরা পাশে দাঁড়াই, হয়তো তারা খুঁজে পাবে আলোর পথ। অসহায় এই পরিবারটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আকুল আবেদন এলাকাবাসীর।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম