রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ফ্যাশন ইতিহাসে অন্যতম সাহসী পোশাক হিসেবে পরিচিত প্রিন্সেস ডায়ানার কালো ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবারও আলোচনায়। গত বৃহস্পতিবার প্যারিসের মিউজে গ্রেভাঁ জাদুঘরে ওয়েলসের প্রয়াত রাজকুমারীর নতুন মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়, যেখানে তাকে দেখা যায় সেই বিখ্যাত ব্ল্যাক অফ-শোল্ডার গাউনে, যেটি তিনি ১৯৯৪ সালে লন্ডনের সারপেন্টাইন গ্যালারির এক নৈশভোজে পরে সাড়া ফেলেছিলেন।
ডায়ানা-চার্লস দাম্পত্য সংকটের প্রেক্ষাপটে পোশাকটি বিশ্বমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পায়। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন, আর ১৯৯৬ সালে সম্পন্ন হয় বিবাহবিচ্ছেদ।
১৯৯৪ সালের ২৯ জুন আইটিভির এক তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লস স্বীকার করেন, তিনি ডায়ানার প্রতি অবিশ্বস্ত ছিলেন। একই সন্ধ্যায় ডায়ানা উপস্থিত হন ভ্যানিটি ফেয়ার আয়োজিত গালায়, নিজের সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ পরে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করেও পোশাকের মাধ্যমেই তিনি শক্ত বার্তা দিয়েছিলেন।
পিপল ম্যাগাজিনকে নির্বাহী সম্পাদক মিশেল টাউবার বলেন, বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংকট প্রকাশ পেলে কেউ সাধারণত আড়ালে চলে যায়। কিন্তু ডায়ানা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সামনে দাঁড়ানোর।
ডায়ানা সেদিন মূলত ভ্যালেনটিনোর একটি পোশাক পরার কথা ভাবলেও শেষ মুহূর্তে বদলে নেন গ্রিক বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের এই কালো গাউনটি। ডিজাইনার পরে জানান, ডায়ানার পোশাকটি তিন বছর ধরে প্রস্তুত থাকলেও তিনি কখনো পরেননি, তাই তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছিলেন।
১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানা তার ৭৯টি গাউন নিলামে তোলেন, যার মধ্যে ছিল ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। মাত্র ২৪ হাজার ১৫০ ডলারে এটি কেনেন স্কটল্যান্ডের ব্যবসায়ী গ্রায়েম ম্যাকেনজি। সব গাউন বিক্রি করে ডায়ানা প্রায় ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেন এবং তা এইডস ও ক্যানসারবিরোধী দাতব্য কাজে দান করেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে ‘সদবিসে’র নিলামে আবারও ওঠে এই ঐতিহাসিক পোশাক। চারজন ক্রেতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত গাউনটি ৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ডলারে বিক্রি হয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি