| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মেজর সিনহা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক ওসি প্রদীপ: হাইকোর্ট

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৩, ২০২৫ ইং | ১৬:২৭:৪৮:অপরাহ্ন  |  ১২০৯৪৬৮ বার পঠিত
মেজর সিনহা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক ওসি প্রদীপ: হাইকোর্ট
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। রোববার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সাগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৩৭৮ পৃষ্ঠার এই রায় ঘোষণা দেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রদীপ কুমার দাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী তৎকালীন এসআই লিয়াকত আলী চার রাউন্ড গুলি করে মেজর (অব.) সিনহাকে হত্যা করেন। রায় অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রদীপ প্রথমে সিনহাকে বুকে আঘাত করেন, এতে তার দুটি পাঁজর ভেঙে যায়। এরপর তিনি জুতাসহ বাম পা সিনহার ঘাড়ের বাম পাশে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

রায়ে বলা হয়, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাস এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ছিলেন। ট্রায়াল কোর্টের প্রদীপ ও লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড যথাযথভাবে প্রদান করা হয়েছে।

বেঞ্চ সাক্ষ্য, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণ, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং পরিস্থিতিগত সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। রায় প্রকাশের পর দণ্ডিতরা ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন।

চলতি বছরের ২ জুন ট্রায়াল কোর্টের ডেথ রেফারেন্স ও দণ্ডিতদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রদীপ ও লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। একই মামলায় ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাবেক কনস্টেবল সাগর দেব ও রুবেল শর্মা, পুলিশ সোর্স মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নুরুল আমিন ও মো. আয়াজ উদ্দিন। সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, নন্দ দুলাল, সাগর, রুবেল, নুরুল, আয়াজ ও নিজামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সহায়তা, প্ররোচনা ও অভিন্ন উদ্দেশ্যের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।

রায়ে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের পূর্ণ বিবরণও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২০ সালের জুলাইয়ে ‘জাস্ট গো’ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও ধারণ করতে সিনহা ও তার সহকর্মীরা কক্সবাজারে যান। সেখানে স্থানীয়দের কাছ থেকে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, গুম ও ‘ক্রসফায়ার’ হত্যার ঘটনার কথা জানতে পারেন। এসব ঘটনার সাক্ষ্য সংগ্রহ করায় প্রদীপ সিনহাকে হুমকি দেন এবং এলাকা ছাড়তে বলেন।

হুমকি উপেক্ষা করে সিনহা তাদের কাজ চালিয়ে গেলে প্রদীপ তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ জুলাই ২০২০ টেকনাফে মারিশবনিয়া এলাকায় ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার পথে স্থানীয়দের দিয়ে ‘ডাকাত’ ঘোষণা করিয়ে সিনহাকে হত্যার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হাইকোর্ট বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড বহু সাক্ষ্য, জবানবন্দি ও পরিস্থিতিগত প্রমাণে নিশ্চিত। তাই ট্রায়াল কোর্টের রায় বহাল রাখতে কোনো বাধা নেই।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪