রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে যখন ওয়াশিংটন–কিয়েভ সম্পর্ককে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ঠিক তখনই তার প্রতি প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানালেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, “কিয়েভকে সহায়তার লক্ষ্যে সব প্রচেষ্টার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি, প্রতিটি আমেরিকানের প্রতি এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রসহ উন্নত অস্ত্রশস্ত্র হাজারো ইউক্রেনীয় নাগরিকের জীবন রক্ষা করেছে। তিনি ইউরোপ, জি৭ ও জি২০ দেশগুলোর সহায়তার কথাও উল্লেখ করে বলেন, এসব সমর্থন ধরে রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।
জেলেনস্কির ভাষায়, “আমরা শান্তির পথে প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কভাবে নিচ্ছি। সবকিছু সঠিকভাবে এগোলে তবেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান সম্ভব।”
এর আগের দিনই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করে ইউক্রেনকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সহায়তার পরও ইউক্রেন যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছে না। একই পোস্টে তিনি যুদ্ধকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও রাশিয়া বা পুতিনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সমালোচনা করেননি।
সময়টা আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ রোববারই জেনেভায় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একটি সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করছেন। ঠিক এই মুহূর্তে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প এর আগেও একই অভিযোগ তুলেছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেছিলেন, বাইডেন প্রশাসনের অধীনে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়ার পরও জেলেনস্কি নাকি ‘কৃতজ্ঞতা’ দেখাননি।
ট্রাম্পের পুনরাবৃত্ত অভিযোগের মাঝেই জেলেনস্কির এই সৌজন্যমূলক অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে—কৌশলগত কৃতজ্ঞতা কি তবে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখারই অংশ?
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম