বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে দুই শিশুর গলাকাটা এবং তাদের মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত নারীর নাম সাদিয়া মোস্তারিম। তিনি ওই গ্রামের শাহাদত হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তান সাইফা (৪) ও সাইফ (২)কে হত্যা করার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী শাহাদত হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের খলিশাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম।
শাহাদত হোসেন একজন সেনাসদস্য। তিনি ময়মনসিংহে কর্মরত। এক সপ্তাহ আগে তিনি ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে মোস্তারিম বটি দিয়ে তার দুই সন্তানের গলা কেটে হত্যা করেন। পরে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
এ সময় তার স্বামী শাহাদত হোসেন পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রতিবেশীরা ঘটনাটি বুঝতে পেরে পুলিশে খবর দেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পুলিশ ঘর থেকে রক্তমাখা বটি উদ্ধার করেছে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য শাহাদত হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনিও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ ছাড়াও তিনজনের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাদিয়ার স্বজনরা জানান, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। গত শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি আসেন সেনা সদস্য শাহাদত। সোমবার দিবাগত রাত এবং মঙ্গলবার সকালেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
নিহত সাদিয়ার খালা কল্পনা আক্তার দাবি করেন, সোমবার শাহাদত হোসেন শ্বশুরের কাছে একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। আজ (মঙ্গলবার) সকালে আমরা শুনি এমন ঘটনা। এসে দেখি দুই সন্তানকে গলা কেটে মেরে তাকে ঘরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখছে। আমরা এর কঠিন বিচার দাবি করছি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ঘরের ভেতর থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই শিশুর গলা কাটা এবং মায়ের মরদেহ গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর নিহতের স্বামী শাহাদত হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন