রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বন্দর পরিচালনা বা এলডিসি থেকে উত্তরণের মতো কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈধ এখতিয়ার অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তর নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি ইংরেজি পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পোস্টে তারেক রহমান এলডিসি উত্তরণ ও বন্দর-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত- দুই ক্ষেত্রেই সরকারের ‘দ্রুততা’ ও ‘অপরিহার্যতা’ দেখানোর প্রয়াসের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত না নিয়েই সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং যৌক্তিক উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
পোস্টে তিনি একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিক ও একজন তরুণ স্নাতকের পারিবারিক সংকটের উদাহরণ দিয়ে দেখান- কীভাবে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব নীরবে সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে, যা সংবাদ শিরোনামেও আসে না। তাঁর মতে, এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সাল হলেও তা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি রাজনৈতিক, অথচ এটি এমন একটি সরকারের দ্বারা নেওয়া হচ্ছে, যাদের কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।
তিনি বলেন, যোগ্য হওয়া আর প্রস্তুত হওয়া একই জিনিস নয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বাড়তি সময় চাইতে বাধা নেই, ইতিহাস ও জাতিসংঘের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোও সময়সীমা সমন্বয়ে নমনীয়তার কথা বলে।
জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দেওয়ার উদ্যোগকেও তিনি ‘জবাবদিহিহীন সরকারের’ সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর ভাষায়, এসব সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহু দশক বেঁধে ফেলবে।
তারেক রহমান বলেন, কেউ বলছে না যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটাবে না কিংবা বন্দর সংস্কার করা উচিত নয়। যুক্তিটা সহজ- দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত সেই সরকারকেই নিতে হবে, যাদের কাছে জনগণের জবাবদিহি আছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণ কখনো নীরব ছিল না এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনই হবে জাতির মতামত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তার ভাষায়, এ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে তাদের দ্বারা, যারা এখানে বসবাস করেন এবং বিশ্বাস করেন- সবার আগে বাংলাদেশ।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে