ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হংকংয়ে বহুতল আবাসিক ভবনগুলোতে লেগে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ এ। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অন্তত ১৬ জনের লাশ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। পাশাপাশি প্রায় ২০০ জন অধরা যাদের কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতদের তালিকায় রয়েছেন একজন ফায়ার ফাইটারও। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৯ জন, যার মধ্যে ১১ জনই অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর সদস্য। আগুন লাগার পর সাহায্যপ্রার্থীদের করা ২৫টি জরুরি কল আজও সাড়া পায়নি, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক এলাকার অন্তত কয়েকটি টাওয়ারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভবনগুলোর চারপাশে সংস্কারকাজের জন্য স্থাপিত বাঁশের তৈরি অস্থায়ী কাঠামো ও জালের ভেতর দিয়ে আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আটটি আবাসিক ব্লকে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এখানে বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলছিল, যেখানে ব্যবহৃত অত্যন্ত দাহ্য উপাদানই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নেমে হংকংয়ের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে বড় ধরনের তৎপরতা চালিয়েছে। সংস্কার কাজের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান উইল পাওয়ার আর্কিটেক্টস-এর দুই পরিচালককে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে কমিশন। এর আগে অবহেলাজনিত হত্যা মামলায় আটক করা হয় সংস্কারকারী কোম্পানি প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে।
৩৩০ মিলিয়ন হংকং ডলারের এই বিশাল সংস্কার প্রকল্পে দুর্নীতির ছাপ পাওয়া গেছে কি না সে দিকেও তদন্তকারীরা নজর দিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কার কাজে ব্যবহৃত দাহ্য উপাদান ছাড়াও অস্থায়ী বাঁশের কাঠামো, অপর্যাপ্ত অগ্নি-নির্ণায়ক ব্যবস্থা এবং সংস্কারের সময় অব্যবস্থাপনার ফলে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘটনার ভয়াবহতা এখনও শেষ হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে থাকা লাশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না স্থানীয়দের।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম