রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ খাতে ভর্তুকি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, কৃষি খাতে ভর্তুকি থাকে, কিন্তু প্রাণী ও মৎস্য খাত এখনো সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও খাদ্য উৎপাদনে এ খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফরিদা আখতার বলেন, দেশি জাতের মাছ ও প্রাণী আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। উন্নত সাইজ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সংকরায়নের প্রক্রিয়া চললেও দেশি জাত যাতে বিলুপ্ত না হয়, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। তিনি জানান, আমরা একে শিল্প হিসেবে দেখছি, তাই এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শুধু পেট ভরে খাওয়া নয়, পুষ্টিমান বজায় রাখা জরুরি। রুই-কাতলার অ্যাকুয়াকালচারকে নিরুৎসাহিত করছি না। তবে দেশি মাছের সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। গরুর মাংস রেড মিট হওয়ায় নিয়মিত বেশি খাওয়ার নিরুৎসাহিত করে তিনি পোল্ট্রি খাতের সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
খাদ্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন কোম্পানি ফর্টিফাইড চাল-ধান উৎপাদন করলেও তা সব সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করে না। সার্টিফিকেশনই সব সমস্যার সমাধান নয়। কীটনাশক দিয়ে চকচকে সবজি তৈরি করলেই তা নিরাপদ হয় না। খাদ্যে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
দ্বিতীয় দিনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘জাতীয় প্রাণী সম্পদ সপ্তাহ: পুষ্টি নিরাপত্তায় প্রাণী ও মৎস্য খাত’।
অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, এসিআই এগ্রিবিজনেসের গ্রুপ উপদেষ্টা ড. ফা হ আনসারী, লাল তীরের নির্বাহী পরিচালক ড. কাজী ইমদাদুল হক, আস্থা ফিডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে ব্লু ইকোনমি নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী। বিএজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু খালিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি