আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভারত সফর করবেন। এই সফরে দুই দেশের ‘বিশেষ ও বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক-বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের নেতৃত্বকে ভবিষ্যত সহযোগিতার রোডম্যাপ তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ দেবে।
২০০০ সাল থেকে নিয়মিত ভারত সফরে আসা পুতিন শেষবার ২০২১ সালে নয়াদিল্লি এসেছিলেন। এই সফরটি ভারত-রাশিয়ার বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের অংশ। এখন পর্যন্ত মোট ২২টি শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। সর্বশেষটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চলতি বছরের ৮-৯ জুলাই মস্কোতে, যেখানে মোদী গিয়েছিলেন। এরপর এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ১ সেপ্টেম্বর চীনের তিয়ানজিনে দুই নেতার মধ্যে আবার দেখা হয়। সেখানেই মোদী নিশ্চিত করেন যে পুতিন ডিসেম্বরেই ভারত আসবেন।
এই সফরে দুই দেশ বেশ কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায়, পাশাপাশি নতুন কিছু প্রকল্পের ঘোষণাও হতে পারে। রাশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আলোচনার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা আশা করছি শিগগিরই এসব প্রকল্প চূড়ান্ত হবে। এতে দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক আরও গভীর হবে।”
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে মোদীর সঙ্গে ফোনালাপের পর ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও রাশিয়ান তেল আমদানি কমানোসহ নানা বিষয়ে মোদীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। আশা করি সব পক্ষই গঠনমূলক আচরণ করবে। সংঘাত দ্রুত বন্ধ হওয়া ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থে।” তিনি জানান, ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন