স্টাফ রিপোর্টার : দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তিনি সংকট নিরসনের পথ খুঁজছেন রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসে তিনি চেষ্টা করছেন জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে।
রোববার (২৫ মে) দ্বিতীয় দিনের সংলাপে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তত ২০ জন রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলা, মানবিক করিডোরসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই প্রধান উপদেষ্টার ওপর আস্থা প্রকাশ করে তাকে দায়িত্বে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ আমাদের এই অর্জন মানতে পারছে না। সুযোগ পেলেই এটি ধ্বংস করতে চাইবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে এই সংকটকালে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গেলো কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহে প্রধান উপদেষ্টার মন খারাপ ছিল। এজন্য তিনি পদত্যাগের চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু মাঝনদীতে মাঝি বদলানো যায় না। আমরা সবাই তার ওপর আস্থা রাখতে চাই। তবে সরকার যেন নিরপেক্ষ থাকে এবং এক সরকারের মধ্যে আরেকটি সরকার যেন দেখা না যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানবিক করিডোরসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, প্রধান উপদেষ্টা হয়তো মনে করেছিলেন, নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে না। তাই তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। আমরা বলেছি, আপনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নির্বাচন, সংস্কার সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। জাতি দিশেহারা হয়ে যাবে।
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে একটি শক্তিশালী প্রশাসন গঠিত হলেই নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে থেকে গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মতের ভিন্নতা থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। তবে কোন মত কার্যকর হবে, সেটা ঠিক করবে জনগণ।
তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়ে ড. ইউনূসকে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। নানা রকম অনাস্থা তৈরি হচ্ছে, সেই দূরত্ব দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণ দৃশ্যমান বিচার চায়। সে বিচার যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
সাকী আরও জানান, তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সরকারও রোডম্যাপের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। তবে নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, তখনই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এর আগে শনিবার সংলাপের প্রথম দিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। ধারাবাহিক এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম হবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক নেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ