| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘খেলা শেষ’ মমতার

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৪, ২০২৬ ইং | ২২:৩২:৫৯:অপরাহ্ন  |  ৬৬৬ বার পঠিত
‘খেলা শেষ’ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ শামিম ওসমানের ভাষণ থেকে ভাইরাল হওয়া ‘খেলা হবে’ শব্দটি সেসময় খুব আলোচিত হয়। যা পরবর্তীতে ভারতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নরেন্দ্র মোদী থেকে মমতা ব্যানার্জিসহ অনেকের শ্লোগানেই স্থান পায়। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘খেলা হবে’ শিরোনামে একটি গান তৈরি করেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। যা রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। আর এই গানটি বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস পর্যন্ত রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের মাঝে আলোড়ন তৈরি করেছিল। এর পাঁচ বছর পর তৃণমূল চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারকে সরিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে সেখানে প্রার্থী করে। দলের আশা ছিল এই গানের স্রষ্টা দেবাংশু ভট্টাচার্য হয়তো হুগলিতে ম্যাজিক দেখাবেন। কিন্তু সেই বাজি উল্টো ফল দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টা দেবাংশু ভট্টাচার্যের পাশাপাশি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য এখন সময়টা ‘খেলা শেষের’। তৃণমূলের এই খেলা শেষের সুর এখন পুরো রাজ্যজুড়েই বাজছে।

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ভোট গণনা বলতে গেলে শেষের দিকে। আর তাতেই স্পষ্ট হলো মমতা ব্যানার্জির খেলা এবার শেষ। ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৮টি আসনই পেয়েছে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। আর তৃনমূল পেয়েছে মোটে ৭৯টি। এমনকি মমতা ব্যানার্জি তার নিজের আসনটিও ধরে রাখতে পারেননি। সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে এমন দেখা গেছে।

অংকটা সহজ ছিল, ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপিকে যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুকরী সংখ্যা পার করতে হয়, তাহলে প্রেসিডেন্সি বিভাগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে হানা দেওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য ছিল। বিজেপি যেমন উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির মতো তাদের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো ধরে রেখেছে, ঠিক তেমনি এমন কিছু এলাকায় তারা বড় ধরনের থাবা বসিয়েছে; যা আগে তাদের নাগালের বাইরে ছিল। এর মধ্যে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত মেদিনীপুর এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্সি বিভাগের কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা। পশ্চিমবঙ্গে ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির’ অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি জেলা। এসব জেলা হচ্ছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। এই জেলাগুলোর ফলাফলই মূলত পশ্চিমবঙ্গের ভোটের হিসেব পাল্টে দিয়েছে।

তবে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্সি বিভাগে তৃণমূলের আধিপত্য শেষ। বাংলায় কোনও ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে এর আগে এমন পরিবর্তনের হাওয়া বইতে দেখা গিয়েছিল বহু বছর আগে। তখন বামফ্রন্টের তিন দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল সেই পরিবর্তন।

তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত মেদিনীপুরে বিজেপি এগিয়ে আছে। প্রেসিডেন্সি বিভাগের হাওড়া দক্ষিণ ও হাওড়া উত্তর আসনেও গেরুয়া শিবির এগিয়ে রয়েছে। তবে হাওড়ার মধ্যাঞ্চলীয় আসনগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল। হাওড়া ছাড়াও বর্তমানে কলকাতার চারটি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। এসব আসন হলো শ্যামপুকুর, এন্টালি, বেলেঘাটা এবং মানিকতলা।

একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে দমদম ও দমদম উত্তর আসনে। সেখানেও এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছে ডায়মন্ড হারবার। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হারবারে জয়ের পথে এগিয়ে আছেন বিজেপির দীপক কুমার হালদার।

সবচেয়ে বড় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই প্রেসিডেন্সি বিভাগে মোট ১০৫টি আসন রয়েছে; যার অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো হলো কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে ৯০টি আসনে জিতেছিল। আর বিজেপির ঝুলিতে জুটেছিল মাত্র ১৪টি আসন।

নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে; যেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৪। অন্যদিকে, গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই অঞ্চলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে এখন ৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের দুর্গ ভবানীপুরেও এবার চলেছে এক মহাযুদ্ধ; সেখানে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে হারতে হলো তাকে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪