| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চবি শিক্ষার্থীদের সার্ভে

সুন্দরবনের বাঘ সংকট বাস্তব, না কি পর্যবেক্ষণগত সীমাবদ্ধতা?

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫ ইং | ১১:৪৭:৫৭:পূর্বাহ্ন  |  ১১৫৯৬০০ বার পঠিত
সুন্দরবনের বাঘ সংকট বাস্তব, না কি পর্যবেক্ষণগত সীমাবদ্ধতা?

চবি প্রতিনিধি: সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকায় বিস্তৃত। বাংলাদেশে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের কিছু অংশে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুই জেলায় (উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা) অবস্থান করছে। মোট প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ৬,৫১৭ বর্গকিলোমিটার (৬৬%) বাংলাদেশের অংশে এবং বাকি ৩৪% ভারতের অংশে অবস্থিত। সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগও বনের সৌন্দর্য ও প্রাণিকূলকে প্রায়শই চ্যালেঞ্জ করে। সুন্দরবন বাংলাদেশের একটি অমূল্য সম্পদ।

সম্প্রতি একাডেমিক কারিকুলামের অংশ হিসেবে সুন্দরবনে যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২৭তম ব্যাচের এক দল শিক্ষার্থী। সার্ভে করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিম ম্যাভরিকের অন্যতম বিষয় ছিল: “সুন্দরবনের বাঘ সংকট কি বাস্তব নাকি পর্যবেক্ষণগত সীমাবদ্ধতা”। টিমের সদস্যরা হলেন: দূর্জয়, নাহিদ, আবিদ, নওরাত।

সার্ভের প্রারম্ভিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে টিম জানায়, সুন্দরবনের নাম শুনলেই মনের মধ্যে এক অদ্ভুত আকর্ষণ জেগে ওঠে, তা হলো স্বচক্ষে বাঘ দেখার আগ্রহ। তারা আরও জানান, তারা একে একে কচিখালি, দুবলারচর, কটকা অফিস, কটকা জামতলা, কোকিলমনি, হীরণ পয়েন্ট, করমজল, ডিমের চর এবং আন্দারমানিক ভ্রমণ করেন। প্রত্যেকটি জায়গার বনময় পরিবেশ, নীরবতা এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য তাদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাঘের অনুপস্থিতি। হঠাৎ করেই বাঘ দেখার আগ্রহ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পুরো ভ্রমণে বাঘ সরাসরি না দেখলেও ডিমের চরে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। এক মুহূর্তের জন্য অনুভব হয়, সুন্দরবনের রাজা এখনও রাজত্ব করছে, কিন্তু পরিবেশগত বিপর্যয়, অযত্ন এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সে ধীরে ধীরে সংখ্যায় হ্রাস পাচ্ছে।

“সুন্দরবনের বাঘ সংকট কি বাস্তব নাকি পর্যবেক্ষণগত সীমাবদ্ধতা” শীর্ষক সার্ভের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ অনুসারে সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ৩,৯০০, যা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। সুন্দরবনে ২০১৮ সালে ১১৪টি বাঘ পাওয়া গিয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ সালের জরিপে সংখ্যা ১২৫টি। কিন্তু ২০০৪ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি, আর ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপে ৩৫০ থেকে ৪০০টি উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের জরিপ ছিল সর্বাধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত; তাতে বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল ১০৬টি। বাঘ অন্য প্রাণীদের স্বীকার করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যেভাবে বাঘের সংখ্যা কমছে, তাতে আগামী দিনে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলোও চিহ্নিত করেছে শিক্ষার্থীদের সার্ভে দল। তাদের তথ্য অনুযায়ী প্রধান কারণগুলো হলো: চোরাশিকার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা), খাদ্য সংকট, মানুষের দ্বারা বন ধ্বংস ও আবাসস্থল হারানো, এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি।

শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের সময় নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে বনভূমি ডুবে যাওয়ায় বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেতে থাকায় প্রয়োজনীয় মিষ্টি পানি না পেয়ে বাঘ লবণাক্ত পানি পান করছে, যা লিভার সিরোসিসসহ অসুস্থতা সৃষ্টি করছে। মিঠা পানীয় জলের অভাবে বাঘ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া নির্বিচারে বন উজাড়, অপরিকল্পিত পর্যটন ও বনের মধ্য দিয়ে ভারী নৌযান চলাচলের কারণে বাঘের বংশবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সার্ভে টিমের অন্যতম পর্যবেক্ষক মোঃ নাঈম হোসেন দূর্জয় বলেন, “সুন্দরবনের বাঘ শুধুমাত্র একটি দর্শনীয় প্রাণী নয়। এটি একটি সংকেত, যা আমাদের বলে দিচ্ছে যে বন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা না করলে বাঘ দেখা কখনো সহজ হবে না। আমরা হয়তো স্বচক্ষে বাঘ দেখিনি, কিন্তু তার পদচিহ্ন আমাদের মনে করিয়েছে যে সুন্দরবন এখনও বাঘের জন্য একটি বাড়ি। আর সেই বাড়ি রক্ষার দায়িত্ব এখন আমাদের ।”


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪