আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাফায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়া ‘পপুলার ফোর্সেস’-এর নেতা ইয়াসির আবু শাবাবকে হত্যা করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। কাসেম ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, নিখুঁত পরিকল্পনায় গত বৃহস্পতিবার অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক সহযোগীকে হত্যা করা হয়।
সূত্র জানায়, অভিযানের মূল ভূমিকায় ছিলেন এক তরুণ, যিনি পপুলার ফোর্সেসে যোগদানের ভান করে তাদের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং অভ্যন্তরীণভাবে হামলার সুযোগ তৈরি করেন। বাহিনীটির ধারণা ছিল, হামাসের সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণ বাইরে থেকে হবে—এজন্য তারা ইসরায়েলি ট্যাংকের কাছেই আশ্রয় নিয়েছিল। ফলে ভেতর থেকে আসা হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়।
পপুলার ফোর্সেসকে গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের ‘ভাড়াটে বাহিনী’ হিসেবে দেখতেন। রাফার পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় এই মিলিশিয়া ‘নিরাপদ এলাকা’ গঠনের নামে বাড়ি তল্লাশি, বিস্ফোরক অপসারণ, প্রতিরোধযোদ্ধা হত্যাসহ নানা দমনমূলক কর্মকাণ্ড চালাত। প্রায় ১০০ সদস্যের এই বাহিনীকে অস্ত্র ও সহায়তা দিত ইসরায়েল। যদিও আবু শাবাব এই সম্পর্ক গোপন রাখার চেষ্টা করতেন, গত জুনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে হামাসবিরোধী মিলিশিয়াদের সমর্থনের কথা জানান।
ত্রিশোর্ধ্ব আবু শাবাব দক্ষিণ গাজার তারাবিন বেদুইন গোত্রের সদস্য ছিলেন। আগে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে কয়েক বছর কারাবন্দী থাকার পর যুদ্ধ শুরুর দিকে কারাগার থেকে পালিয়ে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন। মানবিক সহায়তা বিতরণের দাবি করলেও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে সহায়তা লুটপাট এবং ফিলিস্তিনিদের দমন-পীড়নের অভিযোগ ছিল।
হামলায় নিহত হওয়ার পর তারাবিন বেদুইন গোত্র এক বিবৃতিতে জানায়, তার মৃত্যু একটি ‘অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি’, যা গোত্রের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।
সূত্র মতে, এই অভিযান হামাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং গাজায় মিলিশিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইসরায়েলি কৌশলে বড় ধাক্কা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি তথ্যসূত্র:মিডল ইস্ট আই