নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় তিন বছরেও শেষ হয়নি মাটি খননের কাজ। ‘কবে হবে ব্রিজ’—এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে। রাস্তা কেটে মাটি খনন করে তিন বছর ধরে ফেলে রাখায় ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসীসহ কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পূর্ণবাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন/ড্রেজিং-এর মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামে খালের উপর প্রায় ২০.৫৭ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। ৯২ লাখ ৭২৬ টাকার চুক্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুজ্জামান নির্মাণ কাজ শুরু করে।
২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেয়। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এখনও চলছে মাটি খুঁড়াখুঁড়ি।
মাকড়াইল গ্রামের বাসিন্দা লিমন শিকদার বলেন, ব্রিজ করার জন্য এখানে মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ঠিকাদারের কোনো খোঁজখবর নেই। তারা একদিন মাটি খোঁড়ে, আবার পাঁচ দিন বন্ধ রাখে—কাজে কোনো গরজ নেই। তিনি আরও বলেন, এই জায়গায় ব্রিজটি হলে এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুজ্জামান-এর মালিক ওয়াহিদুজ্জামানকে বারবার তার মুঠোফোনে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, স্থানীয়দের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ঠিকাদার ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। তারপরও আমরা ঠিকাদারকে চাপ দিচ্ছি। ২০২৬ সালের জুন মাসে এই প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে না পারে, তাহলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
স্থানীয়দের অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাবু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজের কাজটি বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানীয়রা ঝামেলা করছে—এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ কিছু জানায়নি। জানালে কারা কী করছে সেটা দেখে সমাধানের চেষ্টা করতাম।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন