| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সুবর্ণচরে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগী, হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ ইং | ০৭:৩০:১১:পূর্বাহ্ন  |  ৪৪৪২৯৪ বার পঠিত
সুবর্ণচরে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগী,  হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গত কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। দিনের অধিকাংশ সময়ই রোদের দেখা মেলে না। এ অবস্থায় মারাত্মকভাবে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার উপজেলায় ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা।

সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছে। কুয়াশা বেড়েছে। হাসপাতালের মেঝেতে রোগীর চাপ, নার্সরা ব্যস্ত রোগীর চাপ সামলাতে।

শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড শীতের কারণে উপজেলায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা। এসব রোগে আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। গত এক সপ্তাহে এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকশ শিশু জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও রয়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।

শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় গৃহবধূ আসমা আক্তারের সঙ্গে। চার দিন ধরে তাঁর সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা জ্বরে আক্রান্ত। প্রথমে বাড়িতে রেখে পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা দিলেও জ্বর কমেনি। নিরুপায় হয়ে হাসপাতালে আসেন। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রেখে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

আসমা বলেন, “বাচ্চাটা চার দিনের জ্বরে কাহিল হয়ে গেছে। ঘাড় তুলতে পারছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বলেছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ (নিউমোনিয়া) প্রতিদিন অনেক শিশু ভর্তি হচ্ছে। এখন ইনজেকশন ও অন্যান্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে। শয্যা পাচ্ছি না। বলতে পারছিনা কবে সন্তানকে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরতে পারব।”

চর আলা উদ্দিনের বাসিন্দা শেফালী আক্তারের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সৈকত ছয় দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত।

অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে জোসনার চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি বললেন, “ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে, আগে বুঝতে পারেননি। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন সাধারণ জ্বর। কিন্তু হাসপাতালে দুই দফায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, ছেলের নিউমোনিয়া। এখন চিকিৎসা চলছে। তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়মিত পেলে বাচ্চাটা আরও আগে ভালো চিকিৎসা পেত।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সোহেল সারওয়ার জানান, সুবর্ণচরের চরাঞ্চল থেকে শিশুরা বেশি আসছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছে। ফলে ঠান্ডাজনিত রোগও দেখা দিয়েছে। সাধারণ ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, “যেই শিশুগুলো মারা যাচ্ছে, বেশিরভাগ নবজাতক ও পাঁচ বছরের মধ্যে। পল্লী চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিয়ে তাদের অবস্থা যখন বেশি খারাপ হয়ে হাসপাতালে আসে, তখন আমাদেরও কিছু করার থাকে না। আমরা সাধ্য অনুযায়ী এ হাসপাতালে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করছি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচপিও) ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে অনেক শিশুকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে আসে, আমরা সেগুলোকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করি। অনেক রোগীর অভিভাবক জেলা হাসপাতালে না গিয়ে বাড়ি ফিরে যান। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে মারা যায়।”

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আবহাওয়ার কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।”


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪