রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে হঠাৎ করে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্ম সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে ভণ্ডুল করার কোনো অপচেষ্টা চলছে কি না।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’শীর্ষক কর্মসূচির আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রিজভী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কেউ কেউ এই নির্বাচন বানচালের পথে হাঁটছে। এর পেছনে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিও ভাবনার বিষয়।
তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তো নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাহলে এই সময়ে এত সন্ত্রাসীর উত্থান কেন? আজ পাড়া-মহল্লায় মহল্লায় সন্ত্রাসীদের দাপট এটা কিসের ইঙ্গিত? এখন তো বরং সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ সময় হওয়ার কথা।
রিজভী আরও বলেন, মানুষ বিস্মিত হচ্ছে, নানা প্রশ্ন তুলছে। কোথা থেকে এসব সন্ত্রাসী এল? কারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে? এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ ও শঙ্কা তৈরি করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এ নেতা বলেন, এই ঘটনার পরপরই বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিচ্ছে। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই একটি রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছে। এগুলো স্বাভাবিক নয়, বরং সন্দেহজনক।
তিনি বলেন, একজন উপদেষ্টা মাত্র কয়েক দিন আগে বলেছেন। জনগণ নাকি সরকারকে ম্যান্ডেট দেয়নি, কত দিন থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সবকিছু মিলিয়ে দেশে নানা সংশয়, সন্দেহ ও কৌতূহল তৈরি হচ্ছে।
বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য। এগুলো কোনো আরব্য উপন্যাস বা কল্পকাহিনি নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাগাড়ম্বরের রাজনীতি করি না। অতীতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, তারা সাড়ে ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে রক্ত ঝরিয়েছে। তারা ঘরে ঘরে চাকরি, বিনা মূল্যে সার দেওয়ার মতো অতিশয়োক্তি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাস্তবে আমরা দেখেছি ব্যাংক লুট, টাকা পাচার আর লুটেরা অর্থনীতির উৎসব।
আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা দাবি করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার আগে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম