রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসা সহজ করতে আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভ্যাট ও আয়কর আদায়ের দিকে অগ্রসর হতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অবৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধে শিগগিরই আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
আবদুর রহমান খান বলেন, পৃথিবীর খুব কম দেশেই ট্রেডের ওপর আমাদের মতো এত বেশি ট্যাক্স আরোপ করা হয়। অনেকেই মনে করেন, এটি শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য করা হয় কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার জন্য এই কর কাঠামো ব্যবহার করি।
তিনি জানান, এদিন সকালে দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এনবিআরে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন ছিল—আমদানি শুল্ক কমানো হলে স্থানীয় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কী হবে? কারণ বিজয় দিবস থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর)। এ প্রেক্ষাপটে সরকার বিষয়টি কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে ভাবছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই উৎপাদক ও আমদানিকারক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে ভোক্তার স্বার্থ নিশ্চিত করা। আমরা চাই বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও মোবাইল ফোনের দাম কমুক। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন হলে আমদানি ও উৎপাদন দুই জায়গাতেই ছাড় দিতে আমরা প্রস্তুত।
বিজয় দিবস থেকে দেশে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। তবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা মোবাইল ফোন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ পাবে। এর পর থেকে এসব ফোন আর নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যাবে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে বৈধ পথে খুব কম মোবাইল ফোনই দেশে আসে, ফলে গ্রে মার্কেটই মূল উৎস হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে গ্রে মার্কেট দিয়েই বেশিরভাগ হাই-এন্ড ফোন দেশে ঢুকছে। এর ফলে সরকার প্রকৃত অর্থে কোনো রাজস্বই পাচ্ছে না। এনইআইআর কার্যকর হলে যদি এই বাজারকে ফরমাল চ্যানেলে আনা যায়, তাহলে কিছু রেভিনিউ ছাড় দিলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বাড়বে।
স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে অতীতে বেশি আমদানি শুল্ক আরোপের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, লোকাল ইন্ডাস্ট্রি রক্ষা করতেই আমরা অনেক সময় বেশি শুল্ক নির্ধারণ করি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সেই আমদানি শুল্কও কমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
বর্তমানে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মিলিয়ে মোট করহার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে উৎপাদন ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়।
উল্লেখ্য, এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে সম্প্রতি মোবাইল ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। এনইআইআর চালু হলে অবৈধ পথে আসা ফোন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা পুরনো ফোনের ব্যবসাও বন্ধ হবে। এ পরিস্থিতিতে গত ডিসেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক বহুপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ ফোন তিন মাসের জন্য সাময়িক ছাড় পায়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম