| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চাঁদপুরে এবার ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ ইং | ১০:১৬:৪৬:পূর্বাহ্ন  |  ৩৯১৪৮১ বার পঠিত
চাঁদপুরে এবার ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে

চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পসহ আট উপজেলায় আলু বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক ওই জমিতে ধান আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিন জেলা সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার অধিকাংশ মাঠে দেখা গেছে আলু বপনের কাজে কৃষকদের ব্যস্ততা। সকাল থেকেই মাঠে নামছেন কৃষকরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার অনেকে শ্রমিকদের নিয়ে আলু বপন করছেন। এভাবেই দিন কাটছে কৃষকদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আলু আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। তবে আবাদের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যেই সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু বপন সম্পন্ন হয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বেশি আলু আবাদ হয় মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। দ্বিতীয় অবস্থান রয়েছে কচুয়া এবং তৃতীয় অবস্থান সদর উপজেলায়। এই তিন উপজেলায় আবাদ হয় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর।

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দনপর্দি গ্রামের মাঠে পুরো দমে চলছে আলু বপন। এখানকার কৃষক ইসমাইল হোসেন ও সুরুজ মিয়া বলেন, ‘গত বছর আলু ভালো দাম পাইনি। তবে আমাদের জমিতে এই সময় আলু ছাড়া অন্য ফসল কম হয়। তাই বাধ্য হয়ে আলু লাগাতে হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর, আশিকাটি, রামপুর, মৈশাদি, বালিয়া ও বাগাদী ইউনিয়নের উঁচু জমিতে আলু বপন শুরু হয়েছে। বাগাদি সোবহানপুর গ্রামের কৃষক শামছুল ইসলাম বলেন, ‘এবছর আমরা আগাম আলু বপন শুরু করেছি। কারণ বৃষ্টি বা কুয়াশার কারণে আলুর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। আগে উৎপাদন হলে ক্ষতির ঝুঁকি কমে।’

এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার উঁচু জমি, নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে আগাম জাতের আলুর বীজ বপন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আলু বপনের কার্যক্রম চলবে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষকদের উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মেঘনার পশ্চিমে বোরচর এলাকার কৃষক আমান উল্লাহ বলেন, ‘এ বছর আমি ১২ একর ২৫ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করেছি। এ এলাকার মাটি আলু আবাদের উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা আলু চাষে ঝুঁকছেন। গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছিল, তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছি।’

চরাঞ্চলের কৃষক আলী আজ্জম, আলমগীর ব্যাপারী ও ওয়াসিম জানান, ‘আগাম জাতের আলু চাষে শ্রম বেশি হলেও বাজারে প্রথম বিক্রি করলে লাভ বেশি। তাই আমরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছি।’

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অর্থকরী ফসল হিসেবে আলু চাষ এ এলাকায় অত্যন্ত লাভজনক। অধিকাংশ কৃষক এখন আলু চাষে স্বাবলম্বী। সেচ প্রকল্প এলাকায় আমরা উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে আছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আলুর বাম্পার উৎপাদনের আশা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘এ বছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার হেক্টর কমেছে। এর কারণ হলো গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়া। স্বাভাবিকভাবে কোনো ফসলের দাম ভালো হলে কৃষকের আগ্রহ বাড়ে। সমস্যা হলে তারা আর আবাদ করে না। তবে আমার সঙ্গে কৃষকদের কথা হয়েছে। সদরের একজন কৃষক গত বছর ১০ হেক্টরে আলু আবাদ করেছিলেন, এ বছর করেছেন ৫ হেক্টরে। বাকি ৫ হেক্টরে তিনি বোরো ধানের আবাদ করবেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে এ বছরও আলুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।’

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪