| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জানুয়ারি ৬–এর ভাষণ সম্পাদনা নিয়ে মানহানির মামলা

বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলার দাবি ট্রাম্পের

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ ইং | ০৭:৫৮:২৯:পূর্বাহ্ন  |  ৩৮৯৪৩৪ বার পঠিত
বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলার দাবি ট্রাম্পের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারি ৬, ২০২১–এর ভাষণ সম্পাদনার মাধ্যমে তাকে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতোভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দায়ের করা এ মামলায় তিনি দুটি অভিযোগে প্রতিটিতে ৫ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জানুয়ারি ৬–এর ওই ভাষণের কিছু অংশ জোড়া দিয়ে বিবিসি এমন একটি চিত্র উপস্থাপন করেছে, যাতে মনে হয় ট্রাম্প তার সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সম্পাদিত ভিডিওতে ‘ক্যাপিটলের দিকে মার্চ করতে’ বলা এবং ‘ফাইট লাইক হেল’ মন্তব্যটি দেখানো হলেও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বানসংবলিত অংশ বাদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিবিসি ট্রাম্পের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটি স্বীকার করেছে, সম্পাদনার ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এতে সহিংসতার সরাসরি আহ্বান দেওয়া হয়েছে এমন ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে বিবিসির দাবি, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

ব্রিটেনে টেলিভিশন দর্শকদের কাছ থেকে আদায়কৃত বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ফি দিয়ে পরিচালিত হয় বিবিসি। এ কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হলে তা রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।

সংকটে বিবিসি, শীর্ষ দুই কর্মকর্তার পদত্যাগ

১০৩ বছরের ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকটের মুখে পড়া বিবিসি জানিয়েছে, আলোচিত ওই তথ্যচিত্রটি আর কোনো প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করার পরিকল্পনা নেই।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে বিবিসির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান প্যানোরামা-য় প্রচারিত ওই তথ্যচিত্র ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রতিষ্ঠানটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।

ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, তথ্যচিত্রটির কারণে তার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরে একজন বহিরাগত মানদণ্ড–পরামর্শকের ফাঁস হওয়া বিবিসির একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে সম্পাদনা পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়, যা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত এই সম্প্রচারমাধ্যমে রাজনৈতিক পক্ষপাতের বিস্তৃত তদন্তের অংশ ছিল। উল্লেখ্য, বিতর্কিত তথ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচার করা হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা থাকায় ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে যে বিবিসি জেনে-বুঝে দর্শকদের বিভ্রান্ত করেছে অথবা বেপরোয়া আচরণ করেছে। অন্যদিকে বিবিসি যুক্তি দেখাতে পারে, তথ্যচিত্রটি সামগ্রিকভাবে সত্যভিত্তিক ছিল এবং সম্পাদনার মাধ্যমে কোনো ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়নি কিংবা এতে ট্রাম্পের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে প্রত্যাবর্তনের পর ট্রাম্পের করা মামলায় সিবিএস ও এবিসিসহ কয়েকটি গণমাধ্যম সমঝোতায় পৌঁছেছিল। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং আইওয়ার একটি পত্রিকার বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করেছেন; তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে হামলার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া ঠেকানো। 

সিএনএন/রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪