আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দাবি করেছে, দেশটির আটক সাবেক নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চি ‘ভালো স্বাস্থ্যে’ আছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জান্তা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
এর একদিন আগেই সু চির ছেলে কিম অ্যারিস রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি তাঁর মায়ের কোনো খোঁজ পাননি। ৮০ বছর বয়সী সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আশঙ্কা করেন খবর না পেয়েই হয়তো তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
টোকিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিম অ্যারিস বলেন, তিনি মনে করেন তাঁর মাকে রাজধানী নেপিদোতে আটক রাখা হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত বেসামরিক সরকার উৎখাতের পর অং সান সু চিকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলমান। জান্তার আদালতে সু চিকে উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচনী জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
জান্তার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দাউ অং সান সু চি ভালো আছেন।’ তবে তাঁর স্বাস্থ্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, কিম অ্যারিস মনে করছেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বহুধাপের জাতীয় নির্বাচন তাঁর মায়ের মুক্তির বিষয়ে একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও বহু বিদেশি সরকার এই নির্বাচনকে সামরিক শাসন বৈধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটের আগে আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে জান্তা হয়তো সু চিকে মুক্তি দিতে পারে অথবা গৃহবন্দী করতে পারে।
এদিকে জান্তা কর্তৃপক্ষ কিম অ্যারিসের বক্তব্যকে ‘মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এটি আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি একটি স্বাধীন ও বহুদলীয় নির্বাচন নস্যাৎ করার চেষ্টা।
উল্লেখ্য, সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ইতোমধ্যে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং জান্তাবিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
রয়টার্স/রিপোর্টার্স২৪/এসসি