রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং বরেণ্য সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পোস্টে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমাল রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ হাদির মৃত্যুতে যখন শোকাহত জাতি তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করছে, ঠিক সেই সময় কিছু কুচক্রী মহল এই শোককে পুঁজি করে পত্রিকা অফিস ও সাংবাদিকদের ওপর হীন হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের সংকটময় পরিস্থিতির সুযোগ নিতে অপেক্ষা করে, তারাই প্রকৃত অর্থে দেশের শত্রু। এরা দুঃখ ও শোকের মুহূর্তকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শরিফ ওসমান হাদি একজন নির্বাচনী প্রার্থী ছিলেন এবং জনগণের দ্বারপ্রান্তে গিয়েছিলেন। দেশে অবশ্যই নির্বাচন হবে এবং জনগণের রায়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু এই হত্যাকাণ্ড নয়, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘটিত প্রতিটি মব সন্ত্রাসের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এসব সহিংসতা জাতিকে বিভক্ত করেছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের বর্তমান সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম