| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিক দমন: আন্তর্জাতিক নিন্দা ও উদ্বেগ

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ ইং | ০০:২৭:৩১:পূর্বাহ্ন  |  ৩৫৬৬৯৫ বার পঠিত
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিক দমন: আন্তর্জাতিক নিন্দা ও উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার: সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার কারণে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য এই আইনের ব্যবহার উদ্বেগজনক। মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে, যা থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাও রয়েছেন।

দেশি ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলোও আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে। মামলাটি জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীর ও অন্যান্যরা সামাজিক মাধ্যমে এবং টেলিভিশনের টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, যা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে উৎসাহ দিচ্ছে।

আনিস আলমগীর আদালতে বলেছেন, তিনি একজন সাংবাদিক এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাই তার কাজ। তিনি কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত নন। একইভাবে, জাতীয় প্রেসক্লাবের পাঁচবারের সভাপতি শওকত মাহমুদ এবং গোপালগঞ্জের সাংবাদিক মেহেদী হাসানও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার হয়েছেন।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, গত দেড় বছরে ৩৫৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আইনের অপব্যবহার সীমা ছাড়িয়েছে এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

টিআইবি পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ ও নাজনীন নাহার বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই মামলা মানবাধিকারের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।

আইনের প্রেক্ষাপটে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠী দমনের জন্য প্রণীত। ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংশোধনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রমাণাদি ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ১৮ ধারা অনুযায়ী সরকার যেকোনও সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে নিষিদ্ধ করতে পারে এবং ৪০ ধারা মোতাবেক এসব অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য। বর্তমানে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪