| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে: আসিফ নজরুল

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ ইং | ১৪:২৬:৫৯:অপরাহ্ন  |  ৩৩৬৫৭৩ বার পঠিত
হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে: আসিফ নজরুল
ছবির ক্যাপশন: ছবি : সংগৃহীত/আসিফ নজরুল

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যেই এই মামলার বিচার শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২-এর ১০ ধারায় বলা আছে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

এর আগে ওসমান হাদি হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানায় ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে একটি দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। কোনো তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ নয় আমরা চাই প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ বিচার।

তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাকে আড়াল করা যাবে না, তার হত্যার বিচার করতেই হবে।

জাবের বলেন, ওসমান হাদির জানাজায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে। বাংলাদেশের জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। অথচ গতকাল (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তার নাম বা হত্যার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান পাওয়া যায়নি। এতে মনে হয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কখনো বলা হচ্ছে খুনি ভারতে পালিয়েছে, আবার কখনো বলা হচ্ছে সে দেশে রয়েছে। তাহলে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তারা কি শুধু বসে থাকবে?

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আরও বলেন, এখনো খুনির অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি, এমনকি তার ড্রাইভারকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। কখনো খুনির পরিবার, কখনো সহযোগীদের ধরে এনে বলা হচ্ছে তারা তথ্য দিতে পারেনি। তাহলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা কোথায়?

তিনি দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চ বারবার তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমরা না থাকলে খুনিকে আজ পর্যন্ত শনাক্তই করা যেত না। তাহলে প্রশ্ন আসে এই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাখার প্রয়োজন কী?

জাবের আরও বলেন, আমরা যে দ্বিতীয় দাবি জানিয়েছিলাম সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার সে বিষয়ে সরকার একটি শব্দও বলেনি। এটি চরম দায়িত্বহীনতা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয়নি। বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

আইন উপদেষ্টার উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দায় এড়িয়ে যাওয়াই কি আপনাদের দায়িত্ব? কে তদন্তে বাধা দিচ্ছে, কারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে—সব জাতির সামনে বলুন, তারপর পদত্যাগ করুন।

ড. ইউনূসের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে জাবের বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। জানাজার মাঠে সম্মান জানালেও হত্যার বিচার কীভাবে হবে সে বিষয়ে আপনি নীরব থেকেছেন। এই নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার ছাড়া কোনো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। যদি বিচারহীনতা চলতে থাকে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতিদ্রুত ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তারা বিদেশে থাকলে আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪