| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাধর নেতা নাজিব রাজাক: প্রধানমন্ত্রী থেকে কারাগারে

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ইং | ১০:১৫:৪৮:পূর্বাহ্ন  |  ৩৫১০৮৫ বার পঠিত
মালয়েশিয়ার ক্ষমতাধর নেতা নাজিব রাজাক: প্রধানমন্ত্রী থেকে কারাগারে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে একসময় যাঁকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো, সেই নাজিব রাজাক আজ দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। দেশটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতার সন্তান নাজিব ছোটবেলা থেকেই রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বেড়ে ওঠেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যেন তাকে প্রস্তুত করেই গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু টানা নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পর তার পরিণতি হয় ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক পতনে।

বর্তমানে ৭২ বছর বয়সী নাজিব রাজাক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত দুর্নীতির মামলায় ছয় বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তার বিরুদ্ধে আরও একটি বড় মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার সাজা আরও দীর্ঘ হতে পারে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়কে আরও অন্ধকারে ঠেলে দেবে।

২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর নাজিব ও তার স্ত্রী রোসমাহ মনসুরের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন সরকারের আমলে এসব অভিযোগের তদন্ত এগোতে থাকে এবং নাজিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় নাজিব রাজাক নিজেকে একজন সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি কিছু বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন বাতিল করেন এবং আধুনিক মালয়েশিয়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন ক্ষমতার বলয়ে আবদ্ধ এক অভিজাত নেতা। বিশেষ করে ২০১৫ সালে পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) চালুর সিদ্ধান্ত ব্যাপক জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করে, যা পরে বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার।

নাজিবের স্ত্রী রোসমাহ মনসুরও বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার বিলাসী জীবনযাপন ও আচরণ মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র চুল সাজাতেই তার খরচ হতো প্রায় ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিত, যখন সে সময় দেশটির ন্যূনতম মাসিক মজুরি ছিল মাত্র ৯০০ রিঙ্গিত।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ একবার দাবি করেন, ২০১৫ সালে নাজিব তাকে বলেছিলেন—রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য নগদ অর্থই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই বক্তব্য বিরোধীদের কাছে নাজিবের দুর্নীতি ও ক্ষমতার দম্ভের প্রতীক হয়ে ওঠে।

নাজিব রাজাকের নাম আরও আগে থেকেই নানা বিতর্কে জড়িত ছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ফ্রান্স থেকে সাবমেরিন কেনার চুক্তিকে ঘিরে ঘুষের অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় জড়িত এক মঙ্গোলীয় নারী হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। যদিও নাজিব এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন।

২০০৯ সালে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্যে চালু করা ১এমডিবি তহবিল ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর বিপুল ঋণের বোঝায় ডুবে যায়। ২০১৫ সালে তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই ক্ষোভই ২০১৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের বিজয় নিশ্চিত করে এবং নাজিবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের পথ খুলে দেয়।

মার্কিন তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ১এমডিবি তহবিল থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনা, দামি শিল্পকর্ম সংগ্রহ, ব্যক্তিগত জেট এবং হলিউডের সিনেমা দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট নির্মাণে ব্যয় করা হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০২০ সালে একটি মামলায় নাজিব দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড পান, যা পরে কমিয়ে ছয় বছর করা হয়।

এখন যে মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন নাজিব, সেটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার অবশিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।

একসময় যিনি ছিলেন মালয়েশিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনীতিকদের একজন, আজ তিনি দুর্নীতির প্রতীক হয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।


সূত্র: এএফপি

রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪