আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গৃহযুদ্ধ ও চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রোববার(২৭ ডিসেম্বর) সাধারণ নির্বাচনে যাচ্ছে মিয়ানমার। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকার উৎখাত হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে সহিংস সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি মিয়ানমার বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। চলমান গৃহযুদ্ধের পাশাপাশি চলতি বছরের মার্চে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতিসংঘ জানায়, মিয়ানমারে চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বিশ্বে সবচেয়ে কম অর্থায়ন পাওয়া কার্যক্রমগুলোর একটি। প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১২ শতাংশ এখনো পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত।
জাতিসংঘের হিসাবে, ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষের মিয়ানমারে প্রায় ২ কোটি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের কারণে দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩৬ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬ হাজার ৮০০ বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, আগামী বছর মিয়ানমারে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে দেশটিতে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা তাঁদের জীবন ও জীবিকা দুটোকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। ডব্লিউএফপি মিয়ানমারকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ক্ষুধা-হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চলতি বছর দেশজুড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, গৃহযুদ্ধ, দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে মিয়ানমারের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়লেও কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও মূল্যস্ফীতি ২০ শতাংশের ওপরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ভুগছেন দেশটির লাখো মানুষ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে অনেক পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে।
এদিকে সামরিক জান্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা রাশিয়া চলতি বছরের জুনে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে দেশটিতে রুশ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে মস্কো।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি