| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শার্শায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা আবাদ, হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ ইং | ১৪:৫৪:২২:অপরাহ্ন  |  ২৮৩৬৬৯ বার পঠিত
শার্শায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা আবাদ, হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে  মাঠ

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলা জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। ফসলের মাঠের হলুদ রাজ্যে গুঞ্জনে মুখরিত মৌমাছির দল। মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের অপরূপ দোলাচালে কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। শীতের সকালের নরম রোদে উপজেলার মাঠগুলো যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষা ফুলে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজ হাতে হলুদের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের ফাঁকে ফাঁকে মৌমাছির গুঞ্জন আর মাঠের আইলে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকদের চোখে-মুখে একরাশ আশা। এ যেন শুধু ফসলের মাঠ নয়, বরং কৃষকের স্বপ্নের রাজ্য।

এক সময় লাভ না হওয়া ও অব্যাহত লোকসান গুনতে থাকায় যশোরের শার্শায় সরিষা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন চাষিরা। এখন তারা স্বপ্ন দেখছেন বাম্পার ফলনের। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। বিনামূল্যে পাওয়া উচ্চফলনশীল জাতের সরিষার ফলনে কৃষকের প্রশান্তির হাসি দীর্ঘ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় গত বছর প্রায় ৫ হাজার ৯২৯ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৮ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন সরিষা, যা হেক্টরপ্রতি গড়ে ১ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন। এ বছর কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরিষা চাষে কৃষকরা দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ বছর ৬ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ পর্যন্ত ওই পরিমাণ জমিতেই চাষ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো অনেকে চাষ করছেন, ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হবে বলে কৃষি বিভাগের ধারণা।

ফলে এ বছর উপজেলায় সরিষার চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। গত বছর স্থানীয় বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় এবার এ উপজেলায় এক হাজারের বেশি কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। আগামীতে এ জাতের সরিষা চাষে কৃষকরা আরও আগ্রহী হবেন বলে তাদের ধারণা। তবে শুধু ধান চাষ করলে হবে না। পাশাপাশি ভুট্টা, সরিষা, আলু, সূর্যমুখী, পাট, তিলসহ অন্যান্য ফসল চাষের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকের নিপুণ হাতে প্রকৃতির বুকে গড়ে ওঠা ভোজ্য তেল হিসেবে সরিষার তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আগামীতে আরও সরিষার আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন সরিষাক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, মাঠে যেন কেউ সবুজের গায়ে হলুদের আলপনা এঁকে দিয়েছে। মাঠের পর মাঠ যেন হলুদের গালিচা। দিগন্তজুড়ে শুধু হলুদের সমারোহ। সরিষার ফুলে ফুলে মৌমাছিরা মধু আহরণে ব্যস্ত। মৌমাছির গুনগুনানিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা মাঠ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি বিভাগের পরামর্শে শার্শা, বাগআঁচড়া, বেনাপোল, পুটখালি, বাহাদুরপুর, নিজামপুর, ডিহি ও লক্ষণপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের অনেক কৃষক পাঁচ থেকে ছয় বিঘা করে জমিতে অধিক ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করেছেন।

এ বছর দুই বিঘা জমিতে বারি-১৪ ও বিনা-৯/১০ জাতের সরিষা চাষ করা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি বিঘা সরিষা চাষে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। বাজারে এর চাহিদা ও দাম ভালো। বর্তমান সরিষার গাছ ও ফুল দেখে বোঝা যাচ্ছে ফলন ভালো হবে। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে এবং গত বছরের মতো লাভবান হতে পারব।

বালুন্ডা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, সরিষার চাহিদা ভালো এবং চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকায় প্রতি মৌসুমেই সরিষা চাষ করি। আশা করছি এবারও ভালো দাম পাওয়া যাবে। উপযুক্ত দাম পেলে আগামী বছর আরও অনেকে সরিষা চাষে ঝুঁকবে।

বেনাপোলের নারায়ণপুর এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বারি-১৪ জাতের সরিষার গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করে। এ জাতের সরিষা আবাদের পর একই জমিতে বোরো চাষে সারের পরিমাণও কম লাগে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ করেছি।

গোগা গ্রামের নাজমুল বিশ্বাস বলেন, এ বছর নতুনভাবে সরিষা চাষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বারি-১৪ বীজ সংগ্রহ করে দুই একর জমিতে রোপণ করেছি। গাছ ও ফুল দেখে বোঝা যাচ্ছে, এ বছর দ্বিগুণ ফলন হবে এবং বাজারে দামও বেশি পাওয়া যাবে। তাই আমন ধান কাটার পরপরই জমিতে সরিষা চাষ করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বারি-৮, বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৪ ও বিনা-৯ জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। বারি-১৪সহ অন্যান্য জাতের সরিষা বপনের মাত্র ৭৫–৮০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। এ সরিষা উত্তোলনের পর বোরো আবাদ করা যায় বলে কৃষকরা একে ‘লাভের ফসল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষার ভালো আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বারি-১৪ সরিষার গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করে এবং জমির উর্বরতা বাড়ায়। এ জাতের সরিষা আবাদের পর ওই জমিতে বোরো চাষে সারের পরিমাণ কম লাগে। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪