রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : সেই অর্থে দেশে থাকা হয়নি তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের। যতটুকু ছিলেন, তাতে জানার কথা নয়—এই ঢাকা শহরে বিড়াল এখন কতটা জনপ্রিয় একটি প্রাণী। অনেকের ঘরেই এখন বিড়াল পোষা হচ্ছে। ঢাকা শহরে এখন পশুর চিকিৎসক দেখাতে হলেও আগে সিরিয়াল দিতে হয়, যা দেড়–দুই যুগ আগে ছিল কল্পনার বাইরে।
বিড়ালের পেছনে অর্থ খরচ করার মতো সক্ষমতা ও সৌখিনতা—দুটোই বেড়েছে আমাদের এই প্রিয় শহরে। যার ঘরে বিড়াল আছে, সে পৃথিবীর যে কোনো বিড়ালকেই ভালোবাসবে। আর সেই ভালোবাসার প্রকাশটি জাইমা রহমান দেখেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানের পরিবারের পোষা বিড়াল জেবুকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার দেওয়া হয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন—
জেবুকে ঘিরে এত কৌতূহল দেখে আমি কিছুটা অবাক, আবার মজাও পাচ্ছি। ভাবছি, ও যদি বিষয়টা বুঝতে পারত!
যে কোনো প্রাণীকে লালন-পালন করা মানেই একটি বড় দায়িত্ব নেওয়া। কারণ প্রাণীও একটি জীব, আল্লাহর সৃষ্টি। জেবুকে যখন প্রথম ছোট্ট বিড়ালছানা হিসেবে বাসায় এনেছিলাম, তখন ভাবিনি সে আমাদের পরিবারের এত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে যাবে। এমনও হয়েছে—আমার আব্বু-আম্মু বাসায় ফিরে আগে জেবুর খবর নিয়েছেন, তারপর আমার! আম্মু যখন বাগান করতেন বা পাড়ায় হাঁটতে যেতেন, জেবু তাঁর চারপাশে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরত।
সন্ধ্যায় আব্বুর অনলাইন মিটিংগুলো শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর কোলে গুটিশুটি মেরে বসে থাকত, মাথায় হাত বুলানোর আদর উপভোগ করত। আর আমার ক্ষেত্রে, জেবু যেন সব সময় আমার মনের অবস্থা বুঝে ফেলত; তার ছোট্ট পা আর কোমল ছোঁয়া দিয়ে যেভাবে পারে সেভাবেই সঙ্গ দিত।
যাঁরা প্রাণী পোষেন, তাঁরা জানেন—পোষা প্রাণী নিয়ে বাসা বদলানো কতটা কঠিন। জেবু এখন মহাদেশ পেরিয়ে একেবারে নতুন একটি দুনিয়ায় এসেছে। ওর ছোট্ট প্রাণটার জন্য এই পরিবর্তনটা অনেক বড় আর কষ্টের, যেটা আমরা পুরোপুরি বুঝতেও পারি না।
জেবুর মাধ্যমে আমাদের অনেকেই ধৈর্য শিখেছে, বড়-ছোট সব প্রাণীর প্রতি মমতা শিখেছে, আর ভাষা এক না হলেও একে অন্যকে ভালোবাসা ও যত্ন নেওয়ার সৌন্দর্য বুঝেছে। কারণ ভালোবাসা তো প্রজাতির সীমা মানে না।
আমরা ছোটবেলা থেকেই পশু-পাখির সঙ্গে বড় হয়েছি। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি—যে মানুষ অন্য কোনো জীবের দায়িত্ব নেওয়ার সৌভাগ্য পায়, সে নিজের সম্পর্কে অনেক বেশি কিছু শিখে ফেলে, যা সে হয়তো কল্পনাও করেনি।
জেবু সম্পর্কে একটি মজার তথ্য: ও কখনো ‘মিউ মিউ’ করে না—একদমই না। আলমারিতে আটকে গেলেও না। বরং খুশি বা অবাক হলে পাখির মতো নরম করে ডাক দেয়। অনুমতি ছাড়া কোলে নিলে হালকা বিরক্তিতে গোঁ গোঁ করে। আর যেসব বিড়াল ওর পছন্দ নয়, তাদের দিকে কিন্তু বেশ জোরেই চিৎকার করে!
রিপোর্টার্স২৪/এসএন