রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মামুনুল হকের বছরে আয় ১৩ লাখ টাকার বেশি। শিক্ষকতা ও ব্যবসা থেকে তিনি এই আয় করেন বলে নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে ইসিতে হলফনামা জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বাগেরহাট-১ আসন থেকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, মামুনুল হকের বার্ষিক মোট আয় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৪ টাকা। এর মধ্যে শিক্ষকতা থেকে তার আয় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৪ টাকা।
৫৩ বছর বয়সী মামুনুল হক হলফনামায় পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করেছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স/এমবিএ পাস। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তিনি ঢাকার লালবাগ এবং বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুর উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মামুনুল হকের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, বন্ড, ঋণ এবং শেয়ার মিলিয়ে ৮৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৭ টাকা। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১ লাখ টাকার এবং আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ টাকার। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮৬ লাখ টাকার বেশি।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি, যার অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৮ টাকা। অস্থাবর ও স্থাবর মিলিয়ে মামুনুল হকের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
আয়কর রিটার্নে মামুনুল হক বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা। তিনি আয়কর হিসেবে ৪৯ হাজার ৩৪ টাকা পরিশোধ করেছেন। আয়কর বিবরণীতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৫ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত এবং অপর দুটি মামলা বিচার ও তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেসব মামলার বেশির ভাগই খালাস, প্রত্যাহার অথবা অব্যাহতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছিল ২০২১ সালে—মোট ১৯টি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি