| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেইজিং-সিউল সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ

জাপানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লিকে স্বাগত জানাবেন শি

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ০০:১৭:০৬:পূর্বাহ্ন  |  121028 বার পঠিত
জাপানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লিকে স্বাগত জানাবেন শি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানাতে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং সিউলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বক্তব্যের পর থেকেই চীন-জাপান সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোকে কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।

লি জে মিয়ং ক্ষমতা নেওয়ার পর জুন থেকে এটাই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর চীন সফর। তবে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এটি হবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বৈঠক, যা স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতির তুলনায় বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ের ব্যবধানই ইঙ্গিত দিচ্ছে চীন দ্রুত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাপান সফরের আগেই তাকে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বলেন, চীন দক্ষিণ কোরিয়াকে আগের চেয়ে কিছুটা বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে এবং টোকিওর সঙ্গে সিউলের শীর্ষ বৈঠকের আগে বেইজিং সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

সফরের আগে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লি জে মিয়ং শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শি একজন দুরদর্শী ও শক্ত নেতৃত্বের অধিকারী নেতা, যিনি স্বল্প সময়ের মধ্যেই চীনের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশকে স্থিরভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন লি।

লি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি হওয়া উচিত এমন অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।

লি প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ‘পুনরুদ্ধার’ করতে চায়। কারণ, চীন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সমালোচনার কারণে সিউল-বেইজিং সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট বজায় রাখলেও, একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিচ্ছে। গত ডিসেম্বরে লি জে মিয়ং স্পষ্ট করে বলেন, চীন ও জাপানের কূটনৈতিক বিরোধে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো পক্ষ নেবে না।

তবে চীন-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক এখনো জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সামরিক মিত্র, অন্যদিকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া এখনো অনিশ্চিত ও চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে আরও ‘নমনীয়’ করে তাইওয়ানসহ আঞ্চলিক অন্যান্য সংকটে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা চীনের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

লি প্রশাসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা কেবল উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধের জন্য এ বিষয়টি বেইজিংকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হবে।

এ সফরে প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সবুজ শিল্প খাতে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। দক্ষিণ কোরিয়া তার বিরল খনিজের প্রায় অর্ধেক চীন থেকে আমদানি করে, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই যায় চীনে, যা দেশটির সবচেয়ে বড় বাজার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করতেও চীনের সহায়তা চাইতে পারেন লি জে মিয়ং। যদিও পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে তাঁর সরকারের যোগাযোগ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। -রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪