রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করায় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ইমামকে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইমামকে ঘিরে মিছিল করছেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহমুদ হকের ছেলে। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, একই এলাকার মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম জানান, মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং উভয়ের সম্মতিতে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়েছে।
এদিকে, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় ডেকে আনা হয়। পরে মেয়েটিকে তার কাছ থেকে আলাদা করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন তাকে সারা দিন চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান রানার বাড়িতে আটকে রাখা হয়। রাতে এক তরফা সালিস বসিয়ে তালাক দেওয়া হয় এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।
তিনি দাবি করেন, আমার কোনো অপরাধ থাকলে আইনি শাস্তি মেনে নেব, কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতনের বিচার চাই।
চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান বলেন, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ ও অন্যান্য বিষয় অভিভাবকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, আমার মেয়ে এখনো নাবালিকা। তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ভিডিওটা দেখেছেন। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুত্র : কালের কণ্ঠ