রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সী ইয়াছিন আরাফাতকে আটক করা হয়েছে। তিনি ভালুকার দক্ষিণ হবিরবাড়ি এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্যাক্টরির গেইটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করে দিপুকে হত্যা করার পর লাশ রশি দিয়ে টেনে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় পোড়ানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, ইয়াছিন শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করতেন। আত্মগোপনের সময় তিনি সুফফা মাদ্রাসায়ও শিক্ষকতা করেছিলেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু দাসকে হত্যা করা হয়। লাশ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের রিমান্ড প্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশের মতে, ইয়াছিন আরাফাতের গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে দিপু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধাপ, এবং তিনি লাশ পোড়ানোর ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম