নড়াইল প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন যাবৎ বেদখলে থাকা জমি নিজ দখলে নিতে মাঠে নেমেছে নড়াইল জেলা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একটি প্রতিনিধি দল নড়াইলের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ দেশের একটি প্রাচীনতম সরকারি প্রতিষ্ঠান।
এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এবং দুস্থ ব্যক্তিদের অনুদান প্রদান করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে জমি, পুকুরসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। তবে নানা জটিলতায় এসব জমির একটি বড় অংশই বেদখল, অব্যবহৃত ও পতিত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা এসব জমি দখলে নিচ্ছে।
তবে নড়াইল জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ এসব জমি পুনরায় নিজ দখলে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন অব্যবহৃত ও পতিত জমি অস্থায়ীভাবে এক বছরের জন্য লিজের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে একই সঙ্গে পতিত এসব স্থানে জেলা পরিষদের দখল নিশ্চিত হবে এবং এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া নড়াইল শহরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি নতুন মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নড়াইল জেলা পরিষদ। এর আগে বুধবার নড়াইল শহরের দুর্গাপুর এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, নড়াইল-মাগুরা সড়কের দুই পাশের জেলা পরিষদের বেশ কিছু জায়গা ব্যক্তি দখলে চলে গেছে এবং কিছু জায়গা পতিত পড়ে আছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এসব জায়গা নিজ দখলে এনে লিজ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকায় নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
জেলা পরিষদের এই কর্মকাণ্ডে দখলদাররা নাখোশ হলেও খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ। নড়াইলের দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ নড়াইল ভূমি অফিসের সামনে পতিত জায়গা জেলা পরিষদ নিজ দখলে নিয়ে লিজ দিয়েছে। এর ফলে ওই জায়গায় জেলা পরিষদের দখল যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি এলাকায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এছাড়া সড়কের দুই পাশের পতিত জায়গাগুলোও লিজ দেওয়া উচিত।
নড়াইল বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ী রমেশ দাস বলেন, আমরা সুন্দর পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। এখানে সুন্দর মার্কেট করা উচিত। মো. নুরুন্নবী সামদানী বলেন, জেলা পরিষদ নিজস্ব জমি উদ্ধারের যে কাজ শুরু করেছে, তা সাধুবাদযোগ্য।
নড়াইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদ এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দুস্থ ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। দীর্ঘদিন যাবৎ নড়াইল জেলা পরিষদের বেশ কিছু জায়গা বেদখল ও পতিত পড়ে আছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক মহোদয়সহ মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সব জমি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছি। পাশাপাশি অস্থায়ী ভিত্তিতে লিজ প্রদানের কাজ চলছে। এর ফলে যেমন জেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধি পাবে, ঠিক তেমনই এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন