রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চরম আকার ধারণ করেছে শীত। হিমালয় পাদদেশঘেঁষা এই অঞ্চলে তাপমাত্রা দ্রুত নামতে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে তেঁতুলিয়ায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে, সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েক দিন ধরে দুপুরের পর কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও পর্যাপ্ত উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার ভোর থেকেই জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, অনেক চালককে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে।
টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। শীত থেকে বাঁচতে ভোর থেকেই গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রার ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এই শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম