| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফরিদপুরে শীত মৌসুমে খেজুরের রসের দেখা মেলে না

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৯:৫৮:অপরাহ্ন  |  24972 বার পঠিত
ফরিদপুরে শীত মৌসুমে খেজুরের রসের দেখা মেলে না

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর একসময় খেজুর গাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ। এর প্রধান কারণগুলো হলো শীতের প্রকোপ কমে যাওয়া, দক্ষ ও অভিজ্ঞ গাছির অভাব, নতুন গাছ লাগানোর প্রবণতা হ্রাস এবং গাছিদের অন্য পেশায় চলে যাওয়া। ফলে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ হয়ে থাকা এসব সুস্বাদু খাবার এখন বিলুপ্তির পথে। তাছাড়া খেজুর গাছ কমে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে রস এখন ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেজুর চাষ আগের মতো এখন আর দেখা যায় না। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফলনও কমে গেছে। তাই রসও খুব কম পাওয়া যায়। কিছু কিছু এলাকায় অল্প কিছু গাছ থাকলেও রস সংগ্রহ কম হওয়ায় চড়া দাম দিয়েও খেজুরের রস কেনা যাচ্ছে না। ছোট একটি হাঁড়ি রস কিনতে ৬০০–৭০০ টাকা গুনতে হয় ক্রেতাদের। এমনকি ৬০০ টাকা দিয়েও সঙ্গে সঙ্গে রস পাওয়া যায় না; ক্রেতাকে কয়েক দিন আগেই গাছির কাছে টাকা দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

জানা যায়, কয়েক বছর আগেও গ্রামের পথে-ঘাটে, নদী বা পুকুরপাড়ে, বড় রাস্তার দু’পাশে কিংবা ক্ষেতের সীমানা ঘেঁষে শত শত খেজুর গাছ দেখা যেত। গাছিরা গাছের মাথার নরম অংশ বিশেষভাবে কেটে রস সংগ্রহ করতেন। ১৫–১৬টি পাতা রেখে গাছের উপরিভাগের বাকলসহ অপ্রয়োজনীয় অংশ পরিষ্কার করা হতো। আড়াআড়িভাবে বাঁধা বাঁশের খণ্ডে দাঁড়িয়ে কোমরে ও গাছে রশি বেঁধে ধারালো দা দিয়ে গাছ কাটার দৃশ্য ছিল দেখার মতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এসব কারণেই শীতের মৌসুমে খেজুরের রসের দেখা মেলে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রস সংগ্রহের জন্য দক্ষ গাছির সংকট অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যদিকে গাছিরা বলছেন, পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্য না পাওয়া এবং পেশাগত দিক থেকে বর্তমান প্রজন্মের অনীহাও এর জন্য দায়ী।

গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছের বয়স বেশি হওয়া এবং রেইনট্রি, কড়ই ও মেহগনি গাছের আধিক্যের কারণে অনেক খেজুর গাছ মারা যাচ্ছে। নতুন করে খেজুর গাছ লাগানোর প্রতিও মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। অপরদিকে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নমূলক কাজের কারণে গ্রামে রাস্তার ধারে থাকা গাছগুলো নির্বিচারে নিধন হচ্ছে। এ কারণে বাজারে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা থাকলেও তা জোগান দেওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

খেজুর গাছি মতিয়ার শেখ বলেন, তিনি অনেক আগেই খেজুরের রস ও গুড় তৈরির কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ আগে বাড়ির আঙিনাসহ ভিটে ও বাগানবাড়িতে খেজুর গাছ ছিল। এখন ঘনবসতি হওয়ার কারণে বাড়ি-ঘর নির্মাণে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। আগে শত শত খেজুর গাছ থাকায় সহজেই রস ও গুড় তৈরি করা যেত, কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও শীতের সকালে রসের হাঁড়ি নিয়ে গাছিরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। এখন সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। নানা অজুহাতে খেজুর গাছ কেটে ফেলার কারণে এটি এখন বিলুপ্তির পথে। সে কারণেই শীত মৌসুমে আর খেজুরের রস মেলে না এবং বিকেলবেলায় গাছ কাটার দৃশ্যও দেখা যায় না।

এছাড়া স্থানীয়রা আরও বলেন, খেজুর গাছ হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে বেপরোয়া খেজুর গাছ নিধন। এতে দিনে দিনে জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে খেজুর গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৯৫ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে বছরে আনুমানিক ৩৫০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদন হয়। তিনি বলেন, “খেজুরের রস কমে যাওয়া একটি গুরুতর বিষয়। এটি শুধু চাষিদের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে না, গ্রামীণ ঐতিহ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।” এ সংকট মোকাবিলায় নতুন খেজুর গাছ রোপণ, রোগমুক্ত জাত উদ্ভাবন এবং চাষিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বর্তমান বাজারে এলাকাভেদে এক লিটার খেজুরের কাঁচা রস বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে দেড়শ টাকায়। এক কেজি ভেজালমুক্ত পাটালি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায়।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪