রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগাভাগির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উত্থাপন করেন ড. খলিলুর রহমান।
বৈঠকে অ্যালিসন হুকার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি বৈশ্বিক মানবিক চ্যালেঞ্জ এবং এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবিকামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এর জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান।
বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ (B-1) ব্যবসায়িক ভিসা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড থেকে বাংলাদেশকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ওয়াশিংটন সফরকালে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, আসন্ন নির্বাচন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি