রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শীতকালে গরম পানি এখন শুধু আরামের বিষয় নয়, অনেক পরিবারের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োজনের অংশ। তবে এই আরামের সঙ্গে বাড়ে বিদ্যুৎ খরচ, বিশেষ করে গিজার ব্যবহারে। ঘরোয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মধ্যে গিজার সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রগুলোর একটি। যদিও সঠিকভাবে হিসাব করলে গিজার চালানোর আনুমানিক খরচ সহজেই জানা যায়।
গিজারের বিদ্যুৎ খরচ হিসাব করবেন যেভাবে
প্রতিটি গিজারের একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা বা ওয়াটেজ থাকে, যা গরম করার সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা নির্দেশ করে। সাধারণভাবে গিজারের ওয়াটেজ ৫০০ থেকে ৫০০০ ওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। অধিকাংশ ঘরোয়া গিজার ১০০০ থেকে ২০০০ ওয়াটের মধ্যে ব্যবহৃত হয়।
ইনস্ট্যান্ট গিজারের ওয়াটেজ সাধারণত বেশি (প্রায় ৪৫০০–৫০০০ ওয়াট), আর স্টোরেজ গিজারের ওয়াটেজ তুলনামূলক কম (গড়ে ১৫০০ ওয়াট)। এ কারণে পানি গরমের গতি ও বিদ্যুৎ খরচেও পার্থক্য দেখা যায়।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবের সহজ সূত্র হলো-
ব্যবহৃত শক্তি (কিলোওয়াট-আওয়ার) = পাওয়ার (কিলোওয়াট) × ব্যবহারের সময় (ঘণ্টা)
ধরা যাক, একটি গিজারের ক্ষমতা ২০০০ ওয়াট বা ২ কিলোওয়াট এবং সেটি প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা ব্যবহার করা হচ্ছে।
দৈনিক ব্যবহার: ২ × ২ = ৪ কিলোওয়াট-আওয়ার
মাসিক ব্যবহার (৩০ দিন): ৪ × ৩০ = ১২০ কিলোওয়াট-আওয়ার
এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম অনুযায়ী মাসিক খরচ হবে-
প্রতি ইউনিট ৭ টাকা হলে: প্রায় ৮৪০ টাকা
প্রতি ইউনিট ৮ টাকা হলে: প্রায় ৯৬০ টাকা
প্রতি ইউনিট ৯ টাকা হলে: প্রায় ১০৮০ টাকা
ইনস্ট্যান্ট বনাম স্টোরেজ গিজার
এই হিসাব মূলত ইনস্ট্যান্ট গিজারের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য। ইনস্ট্যান্ট গিজার ট্যাঙ্ক ছাড়াই অল্প পরিমাণ পানি দ্রুত গরম করে। ছোট পরিবার বা সীমিত ব্যবহারের জন্য এটি সুবিধাজনক হলেও, বেশি ওয়াটেজের কারণে বারবার চালু হলে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হয়।
অন্যদিকে স্টোরেজ গিজার একটি ট্যাঙ্কে পানি গরম করে সংরক্ষণ করে রাখে। একাধিক ব্যবহারকারী বা বড় পরিবারের জন্য এটি বেশি উপযোগী। অনেক ক্ষেত্রে স্টোরেজ গিজারের বিদ্যুৎ খরচ ইনস্ট্যান্ট গিজারের তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম হতে পারে।
যে কারণে গিজারের খরচ বেড়ে যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক গিজার নির্বাচন, প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে শীতকালে গরম পানির সুবিধা বজায় রেখেই বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা