আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি:
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সোমবার সকাল ৮টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সক্রিয় কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,৯৬১-এ পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২০৩ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে কেরালা কোভিড-১৯ সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে, যেখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১,৪৩৫। এরপর মহারাষ্ট্রে ৫০৬ জন, দিল্লিতে ৪৮৩ জন, গুজরাটে ৩৩৮ জন এবং পশ্চিমবঙ্গে ৩৩১ জন সক্রিয় রোগী রয়েছেন। অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে কর্ণাটকে ২৫৩ জন, তামিলনাড়ুতে ১৮৯ জন, উত্তর প্রদেশে ১৫৭ জন এবং রাজস্থানে ৬৯ জন সক্রিয় রোগী রয়েছেন।
সংক্রমণের এই বৃদ্ধি বেশ দ্রুত হয়েছে। গত ২২ মে যেখানে সক্রিয় সংক্রমণের দ্রুত বৃদ্ধি: রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫৭, সেখানে ২৬ মে তা বেড়ে ১,০১০-এ পৌঁছায় এবং সোমবার (২ জুন) তা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ৩,৯৬১ হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন দিল্লির, একজন তামিলনাড়ুর, একজন কেরালার এবং একজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। দিল্লির মৃত ব্যক্তি ২২ বছর বয়সী মহিলা, যিনি পূর্বে পালমোনারি কোচস/পোস্ট টিউবারকুলোসিস লাং ডিজিজ এবং বাইল্যাটারাল লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে ভুগছিলেন। তামিলনাড়ুর মৃত ব্যক্তি ২৫ বছর বয়সী পুরুষ, যিনি ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা এবং সিভিয়ার অ্যাকিউট টিউবুলার ইনজুরিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং কোভিড পরীক্ষায় পজিটিভ ছিলেন। মহারাষ্ট্রের মৃত ব্যক্তি ৪৪ বছর বয়সী পুরুষ, যিনি সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম এবং ডাইলেটেড অ্যাওর্টিক রিগারজিটেশন-এ ভুগছিলেন এবং তাঁর কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ ছিল। কেরালার মৃতের বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৪৪ জন, দিল্লিতে ৪৭ জন, কেরালায় ৩৫ জন, মহারাষ্ট্রে ২১ জন এবং গুজরাটে ১৮ জন রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সংক্রমণ বৃদ্ধির মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বেড, অক্সিজেন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ জারি করেছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের নমুনাগুলির জিনোম সিকোয়েন্সিং থেকে জানা গেছে যে ওমিক্রনের উপ-প্রজাতিগুলির কারণে বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ছে এবং এই উপ-প্রজাতিগুলি তুলনামূলকভাবে মৃদু প্রকৃতির। আধিকারিকরা জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ মৃদু রয়েছে।
শনাক্ত করা চারটি উপ-প্রজাতি হল LF.7, XFG, JN.1 এবং NB.1.8.1, যার মধ্যে প্রথম তিনটি বেশি prevalent। মে ২০২৫ পর্যন্ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) LF.7 এবং NB.1.8 কোভিড উপ-প্রজাতি দুটিকে ‘ভ্যারিয়েন্টস আন্ডার মনিটরিং’ তালিকায় রেখেছে, যা ‘ভ্যারিয়েন্টস অফ কনসার্ন’ বা ‘ভ্যারিয়েন্টস অফ ইন্টারেস্ট’-এর এক স্তর নীচে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব