মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা-যশোর জেলার সীমান্তবর্তী শালিখা উপজেলার কাদিরপাড়া এলাকায় চিত্রা নদী খননকালে মুঘল আমলের একটি তরবারি পাওয়া গেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নদী খননকালে তরবারিটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সম্ভবত তরবারিটি মুঘল আমলের। সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে রাজা সীতারাম রায় মুঘলদের বশ্যতা স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তাকে শায়েস্তা করতে মুঘল বাহিনী নলডাঙ্গা থেকে সাতটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে চিত্রা নদী পথে মাগুরার মহম্মদপুরের দিকে অগ্রসর হয়।
যাত্রাপথে সীতারামের সৈন্যরা গুপ্তভাবে নৌযানগুলোতে বাধা প্রদান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সে সময় কোনো সৈন্যের কাছ থেকে তরবারিটি নদীতে পড়ে যেতে পারে। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, এটি মধ্যযুগে ব্যবহৃত সৈন্যদের একটি হাতিয়ার।
চিত্রা নদী খননকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশ কয়েকদিন ধরে চিত্রা নদীতে খনন কাজ চলছিল। রোববার কাদিরপাড়া গ্রামের অংশে হঠাৎ এক্সকাভেটরের বালতিতে তরবারিটি উঠে আসে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক মনিরুল সরদার তরবারিটি হেফাজতে নেন এবং শালিখা উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।
এ বিষয়ে যশোরের চিত্রা, ভৈরব ও আফ্রা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান বলেন, ইতিহাসে পড়ে জেনেছি এবং আজ নিজ হাতে তরবারিটি ধরে দেখেছি। তরবারিটির ওজন প্রায় ২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ ফুট। এটি লোহার তৈরি হলেও মাঝে মাঝে সোনা বা পিতল দিয়ে নকশা করা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকশ বছর পুরোনো হলেও তরবারিটিতে এখনো কোনো ধরনের মরিচা পড়েনি। এটি আমাদের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন, তাই সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা চিত্রা নদীর পাড় থেকে একটি পুরোনো তরবারি উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাচীনকালের তরবারি হতে পারে। এ বিষয়ে খুলনা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। আপাতত তরবারিটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে।”
শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, নদী খননকালে উদ্ধার হওয়া তরবারিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন