কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাসক গ্রামের এক যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে ১১টি জীবিত ঘোড়া ও ৮টি জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে এই ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা করতেন বলে জানায় এলাকাবাসী। জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে একজোট হয়ে জাহাঙ্গীরের বাড়ি ঘেরাও করে। যারা এই ঘোড়াগুলো জবাই করেছিল তারা টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা একটি পিকআপ ভাঙচুর করে এবং আরেকটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় ফিরে আসেন। এসে তিনি এই ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গরুর খামারের নামে আড়ালে ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা শুরু করেন। নির্জন এলাকায় বাড়ি হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কম থাকায় সেই সুযোগ নিয়ে তিনি এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
গাজীপুরের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা ও ট্রেজারি শাখা) এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল জানান, অভিযান পরিচালনার সময় জবাই করা ৮টি ঘোড়ার মাংস মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। জীবিত ১১টি ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি পিকআপ পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আতিকুর রহমান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ. ওহাব খান খোকা এবং কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক জিহাদুল হক প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন