লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৮ দিন পর সেফটি ট্যাংকি থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মী ফজলে রাব্বি বাবুর (২৫) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বলছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এই তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রথমে ঢাকার দোহার এলাকা থেকে শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাহেদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওমর ফারুক ও রাকিব নামের আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ থানার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর এলাকার ফজলে রাব্বি বাবু ও একই এলাকার মাহফুজ বিভিন্ন সময় একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করত। মাহফুজের বাবুর কাছে পাওনা ছিল, যা বাবু দিচ্ছিল না। এরপর মাহফুজ তার বন্ধু শাহেদকে নিয়ে টাকা আদায় করতে বাবুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মোটরসাইকেল বিক্রি করার পরিকল্পনা করে।
পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শাহেদ মোবাইল ফোনে ইয়াবার কথা বলে বাবুকে ডিঘির পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে মাহফুজ আগেভাগে চাদর পরিধান করে মুগুর নিয়ে অপেক্ষা করছিল। বাবু আসলে মাহফুজ তার মাথায় মুগুর দিয়ে আঘাত করে এবং পরে চাদর দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরে। পরে দুইজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ কাঁধে নিয়ে দীঘির পাশে এক সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।
পরে তারা বাবুর মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য পার্শ্ববর্তী গ্রামের চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়কারী ওমর ফারুককে ফোন দিয়ে বাইকটি তার কাছে বুঝিয়ে দেয়। পরে ওমর ফারুক ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের ৮ দিন পর ২৪ জানুয়ারি দুপুরে চৌপল্লী বাজারের পূর্ব পাশে বেলতলা আমিন শেখের পরিত্যক্ত বাথরুমের সেফটি ট্যাংকি থেকে ফজলে রাব্বি বাবুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি