নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসা একটি বড় সমস্যা হিসেবে গড়ে উঠেছে। কারা করেছে, কীভাবে করেছে, এগুলো আপনারা সবাই জানেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্তত ২০টি স্পটে মাদক ব্যবসা বিস্তার পেয়েছে। আমরা সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসব। শুধু মাদক নয়, দুর্নীতিকেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। কারণ, দুর্নীতি ও অপরাধ মূলত দেশের যুব সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুব সমাজকে সরাসরি কাজে লাগানো এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য বিএনপি পরিকল্পনা করেছে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার, যাতে নারায়ণগঞ্জের যুব সমাজ সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং জঙ্গি, মাদক বা অনৈতিক কাজে যুক্ত না হয়। যুব সমাজকে শক্তিশালী করতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমাদের লক্ষ্য, তারা শুধু চাকরি নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নে অংশীদার হোক।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। অন্যান্য নেতৃত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
এর আগে তারেক রহমান সমাবেশে স্থানীয় প্রশাসনের নানা সমস্যা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবার প্রসার এবং সড়ক ও জলপথে নিরাপত্তা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জকে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও কর্মসংস্থানে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেন, নির্বাচনের আগে জনমত তৈরিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনগণ যেন নিজেরা দেখতে পান, বিএনপি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা নিয়ে আসছে।
সমাবেশ শেষে তারেক রহমানের বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার স্থানীয় জনতা। তারা বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি