স্টাফ রিপোর্টার: সরকার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘তামাকমুক্ত’ ঘোষণা করে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুল-কলেজসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসগুলোতে বুধবার এই আদেশ পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে হেলদি প্রোমোটিং স্কুল (এইচপিএস) নীতির সঙ্গে একত্রে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রয় ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় ‘তামাকমুক্ত বিদ্যালয়’ সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। তামাক শিল্পের কোনও পৃষ্ঠপোষকতা কার্যক্রমও নিষিদ্ধ থাকবে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা খেলাধুলা নিশ্চিত করতে হবে এবং খেলার মাঠ না থাকলে ইনডোর কার্যক্রমের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে সাঁতার শেখানো নিশ্চিত করার নির্দেশও নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে পুষ্টিসমৃদ্ধ, কম লবণ, কম চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয়ের বাজারজাত ও বিক্রয় সীমিত করতে হবে। ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপনের মাধ্যমে খাদ্য পছন্দ আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষাক্রমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং শিক্ষক ও কর্মচারীদের এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য “অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ” বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সব আঞ্চলিক পরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং স্কুল-কলেজের প্রধানদের দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি