| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইয়ে জড়িত ঢাবি ছাত্রদল নেতা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ ইং | ০৪:৩২:২২:পূর্বাহ্ন  |  ৬৩৮৫০৮ বার পঠিত
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইয়ে জড়িত ঢাবি ছাত্রদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীকে মারধর ও ছুরি দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রদল নেতার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্ত ওই নেতা ছিনতাইয়ের টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আরিফ ফয়সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে ছাত্রদলের নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থী হলেন সৌরভ হাসান, মিফতাহুল শাহরিয়ার মিয়াজ, দিয়ান পারভেজ ও মাহি ইসলাম। তারা সবাই স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিফতাহুল শাহরিয়ার মিয়াজ বলেন, তারা হাঁটতে হাঁটতে রমনা গেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। পরিচয় জানানো হলে তাদের বসতে বলা হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই মারধর শুরু হয়।

আরেক ভুক্তভোগী সৌরভ হাসান জানান, ছিনতাইকারীরা তাদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন তল্লাশি করে। বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হয়, এমনকি ফোনের গ্যালারিও দেখা হয়।

ভুক্তভোগী দিয়ান পারভেজ অভিযোগ করেন, ছিনতাইকারীরা তাদের নেশাদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে ‘প্রলয় গ্যাং’ হিসেবে পুলিশে তুলে দেওয়ার হুমকি দেয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে বাবাকে ফোন করে টাকা এনে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মিফতাহুল শাহরিয়ার মিয়াজকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার চোখ ও কপালের মাঝামাঝি স্থানে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অন্য তিন শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয়।

তারা জানান, শুরুতে হামলাকারীর সংখ্যা দুইজন হলেও পরে তা বেড়ে সাতজনে দাঁড়ায়। এর মধ্যে অন্তত তিনজন সরাসরি নির্যাতনে অংশ নেয়। চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়, এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে এবং বাকি ১৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা জোরপূর্বক ক্যাশআউট করা নগদ এজেন্ট নম্বরে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল এলাকার শাকিলের দোকানের নম্বর। এ সূত্র ধরে তারা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে যান।

দোকানের স্টাফ রবিউল জানান, প্রথমে ফোনে গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে কয়েকজন দোকানে এসে চিৎকার শুরু করে এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ভয় পেয়ে তিনি ভুল নম্বরে বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠান বলেও জানান।

দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে আসা ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন আরিফ ফয়সাল। ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৬ মিনিটে তিনি দোকানে প্রবেশ করে ক্যাশআউটের বিষয়ে খোঁজ নেন এবং রাত ৮টা ৮ মিনিটে টাকা নিয়ে দোকান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল মুঠোফোনে বলেন, একজন বন্ধু তার কাছে ক্যাশআউটের জন্য নম্বর চেয়েছিল। পরে কী ঘটেছে, তা তিনি তখন জানতেন না। ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ছিনতাইয়ের সঙ্গে কারা জড়িত—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকজনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটাতে বন্ধুদের সতর্ক করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, এ ঘটনায় এখনো প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪