আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা সফল করতে হলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া অত্যাবশ্যক,এ কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি ইরানের পক্ষে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর জোরদার এবং কোনো হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার তেহরানের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনাকে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরাঘচি বলেন,শূন্য সমৃদ্ধকরণ (জিরো এনরিচমেন্ট) আমরা কখনোই মেনে নেব না। তাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে ইরানের ভেতরে সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া এবং একই সঙ্গে এ বিষয়ে আস্থা তৈরি করা যে, এই কার্যক্রম কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
গত বছর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে পাঁচ দফা আলোচনা হয়। তবে ইরানের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। গত জুনে, ইসরায়েলের টানা ১২ দিনের বিমান হামলা অভিযানের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়।
এরপর থেকে তেহরান দাবি করে আসছে, তারা সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই প্রক্রিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ খুলে দিতে পারে। ইরান বারবার বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।
এ বিষয়ে অবগত এক আঞ্চলিক কূটনীতিক শুক্রবার রয়টার্সকে জানান, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের “মাত্রা ও বিশুদ্ধতা” নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে শর্ত হলো,ইরানের মাটিতে সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আরাঘচি বলেন,ইরানের সমৃদ্ধকরণে অনড় অবস্থান কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্ন। ইরানি জাতির কী থাকা উচিত বা উচিত নয়,সে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, সেটি কখনোই আলোচনার এজেন্ডার অংশ ছিল না।
এদিকে রোববার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় ইরানের অধিকার সম্মান করা প্রত্যাশা করে তেহরান।
পরবর্তী দফা আলোচনার সময় ও স্থান ওমানের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান আরাঘচি। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরবর্তী বৈঠকটি মাস্কাটে নাও হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি