রাবি প্রতিনিধি: সংসদ নির্বাচনের আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শেষ সিন্ডিকেট সভা ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চাকরির দাবিতে ‘জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন। এক পর্যায়ে তারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জুলাইযোদ্ধাদের নিয়োগের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এসময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার কারণে এক সাংবাদিককে হেনস্তা করা হয়।
সিন্ডিকেটের ৫৪৬তম সভা সন্ধ্যায় শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে এটি বর্তমান প্রশাসনের শেষ সভা। তাই সিন্ডিকেটে জুলাইযোদ্ধাদের নিয়োগের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
সোমবার সকালে জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির ৬০–৭০ নেতাকর্মী উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও দুপুরে তারা জোর করে উপাচার্য কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। খবর পেয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে যান।
কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় যারা ছিলেন, তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রশাসন আগে আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। আজ অন্তত পাঁচবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করব।
সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিককে ভিডিও ডিলিট করতে বলা হয়েছিল। সেখানে নিউজ করার মতো কিছু ঘটেনি।
উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন জানান, আজকের সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগের কোনো এজেন্ডা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকশ চাকরি প্রদানের গুজব ছড়ানোর কারণে কিছু লোক ক্যাম্পাসে এসেছিল।
এদিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জিয়া পরিষদ ও ইউট্যাব যৌথভাবে ইউসিজি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলিম বলেন, নিয়োগ তৎপরতা এক থেকে দেড় মাস ধরে চলেছে। আমরা বারবার উপাচার্যকে বিষয়টি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি