আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও তারা পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের একাধিক আফগান শহরে বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার পাকিস্তান রাজধানী কাবুল এবং তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহারসহ কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায়। সীমান্তবর্তী এলাকাতেও গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পরিস্থিতিকে উন্মুক্ত যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে তালেবান সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক সংঘাত-এর ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, সহিংসতা বন্ধে সংলাপই একমাত্র পথ। তিনি জানান, “ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান” সবসময় আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছে এবং এখনও সে অবস্থানেই রয়েছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় পাল্টা হামলা চালায় বলে জানা গেছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান পাকিস্তান তালেবান যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে—যা কাবুল বারবার অস্বীকার করেছে।
মুজাহিদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত ও লাগমানে পাকিস্তানি হামলা হয়। পাল্টা হিসেবে আফগান ড্রোন পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, পাকিস্তানের বিমান ও স্থল অভিযানে অন্তত ২৭৪ আফগান সেনা ও সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ১২ সেনা নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে মুজাহিদ এসব দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি, পাকিস্তানের ৫৫ সেনা নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ আফগানিস্তানে নেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আফগান পক্ষের ১৩ সেনা নিহত ও ২২ জন আহত এবং ১৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।
পরবর্তীতে আফগান সরকার জানায়, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় অন্তত ১৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের এটি সবচেয়ে বড় আকারের বিমান হামলা।
সংঘাত বিশ্লেষক আবদুল সায়েদ বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। ডুরান্ড লাইনের দুই পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের পারস্পরিক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে জটিল করে তুলবে।
গত অক্টোবরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই দেশের ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে সীমান্ত পারাপার প্রায় বন্ধ রয়েছে। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তানে আটক তিন পাকিস্তানি সেনার মুক্তি নিশ্চিত হয়।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই দেশের মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়া, ইরান ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা