| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাবুল-কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলা, সংলাপের প্রস্তাব তালেবানের

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৬ ইং | ১২:০০:০০:অপরাহ্ন  |  ৪৩৬৪১৯ বার পঠিত
কাবুল-কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলা, সংলাপের প্রস্তাব তালেবানের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান কাবুল ও কান্দাহারসহ আফগানিস্তানের একাধিক শহরে বিমান ও স্থল হামলা চালানোর পর আফগানিস্তানের তালেবান শাসকগোষ্ঠী আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে একই সঙ্গে পাকিস্তান এই পরিস্থিতিকে “উন্মুক্ত যুদ্ধ” বলে আখ্যা দিয়েছে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পাকিস্তান আফগান রাজধানী কাবুল, তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহার এবং আরও কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। ইসলামাবাদের অভিযোগ,আফগানিস্তান পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সরাসরি আফগান সরকারের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম হামলা।

কাবুলে দুটি স্থানে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও রয়টার্স যাচাই করেছে। বিস্ফোরণের পরপরই বহু অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যায় এবং আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। কাবুলের এক ট্যাক্সিচালক তামিম বলেন, একটি গোলাবারুদ গুদামে আঘাত হানার পর ভেতরে সঞ্চিত অস্ত্রের বিস্ফোরণ অব্যাহত ছিল।

বিমান এসে দুটি বোমা ফেলে চলে যায়। এরপর একের পর এক বিস্ফোরণ হয়। আতঙ্কে সবাই দোতলা থেকে নিচে নেমে আসে, বলেন তিনি।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে আফগান হামলার জবাবে তালেবানের সামরিক কার্যালয় ও চৌকিগুলোতে আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলার জেরে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে এবং বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী পাল্টা হামলা চালায়।

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান পাকিস্তান তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে বলে দাবি তাদের। যদিও কাবুল সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতা আড়াল করতে দোষ চাপাচ্ছে।

শুক্রবার তালেবান জানায়, তারা আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটাতে প্রস্তুত। মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের ইসলামিক এমিরেট সবসময় সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে এবং এখনও সেই পথেই সমাধান চায়।

তালেবান জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত ও লাগমানে পাকিস্তানের হামলা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আফগান ড্রোন হামলা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের হামলায় ২৭৪ জন তালেবান কর্মকর্তা ও যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করেছে, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি। পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে, তাদের ১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন; আফগানিস্তান জানিয়েছে, তাদের ১৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র বলেন, তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “তালেবান একটি বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। তারা সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আফগান ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড যেন অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন এটি আমাদের ও আফগানিস্তানের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো উসকানি বা সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হলে পরিমিত, দৃঢ় ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে দুই দশকের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ তালেবান গেরিলা কৌশলে পারদর্শী এবং ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাহিনী সরে যাওয়ার পর তারা পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে।

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি শুক্রবার কাতারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলায়ফি-র সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। গত বছর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা কাতার এবারও সংকট সমাধানে কাজ করছে বলে কাবুল জানিয়েছে।

গত অক্টোবরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘর্ষে কয়েক ডজন সেনা নিহত হন। পরে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।-রয়টার্স 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪