| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কখনও কখনও শক্তি প্রয়োগ করতেই হয়: ইরান নিয়ে ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৬ ইং | ১২:১১:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৪৩৬৪৮৫ বার পঠিত
কখনও কখনও শক্তি প্রয়োগ করতেই হয়: ইরান নিয়ে ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, কখনও কখনও শক্তি প্রয়োগ করতেই হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে বিক্ষোভ দমনের ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় জড়িত। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। শুক্রবার টেক্সাসের কর্পাস ক্রিস্টিতে এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, তারা সেই মূল কথাটি বলতে চায় না‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র বানাব না।’ তাই আমি আলোচনায় সন্তুষ্ট নই।” যদিও তিনি এখনও শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও উল্লেখ করেন।

ইরান চায়, যে কোনো চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি শুক্রবার সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শান্তিচুক্তি আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে,যদি কূটনীতিকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়। তিনি জানান, ইরান নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যে তারা কখনও এমন পারমাণবিক উপাদান রাখবে না যা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মার্কিন পক্ষ থেকে আলোচনায় ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তবে চুক্তির বিষয়ে কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বড় সামরিক বাহিনী মোতায়েন রেখেছে, যা প্রেসিডেন্টের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আমাদের বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী আছে। আমি এটি ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু কখনও কখনও করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার ও সোমবার ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে। জুন মাসে ইসরায়েলের ইরানে বোমা হামলা অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

শুক্রবার রুবিও এক বিবৃতিতে ইরানকে “ভুল আটকাদেশের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক” হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তার অভিযোগ, বহু বছর ধরে ইরান মার্কিন ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে আটক করে রেখেছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে, যার মধ্যে মার্কিন পাসপোর্টের ব্যবহার ইরানে, ইরান হয়ে বা ইরান থেকে ভ্রমণে ভৌগোলিক নিষেধাজ্ঞাও থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে বৈঠক করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসেও শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ট্রাম্প “সব বিকল্প পরিষ্কারভাবে বিবেচনায় রেখেছেন।” তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হবে এমন উপলব্ধিও রয়েছে প্রশাসনের ভেতরে। আলোচনায় ফল আসবে কি না, সে বিষয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে আশাবাদ কম বলেও জানানো হয়েছে।

“আলোচনা নিয়ে কেউই খুব আশাবাদী নন,” বলে মন্তব্য করেন ওই সূত্র।(রয়টার্স) 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪